


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে শনিবার দিনভর হাইভোল্টেজ ড্রামা চলল জলপাইগুড়িতে। একদিকে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই কিছুতেই নিজের বদলির নথি নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীনবন্ধু ঘোষের হাত থেকে নিতে নারাজ। অন্যদিকে তাঁকে সেই নথি নিতেই হবে এই দাবিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা ধর্মচাঁদ বারুইয়ের ঘরে বসে ধর্না দিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের জরুরি কিছু কাগজপত্র ও ল্যাপটপ ব্যাগে ভরে প্রথমে স্কুলের পিছনের গেট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক। তবে ওই গেটে তালা থাকায় সেখান দিয়ে তিনি বের হতে পারেননি। পরে এক অশিক্ষক কর্মীর সহায়তায় মূল গেট দিয়েই তিনি বের হন। ১৫০ বছরের প্রাচীন জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের এই হাল দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত শিক্ষামহল। ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের চেয়ার নিয়ে টালবাহানার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে শোরগোল পড়েছে। প্রধান শিক্ষক তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, সোমবার বদলির নথিপত্র নিয়ে তিনি মেটেলিতে নির্দিষ্ট স্কুলে যোগ দেবেন। যদিও প্রধান শিক্ষকের বদলির নির্দেশিকা আসার পর কেন তিনি এত টালবাহানা করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠছে। এদিন তাঁকে ক্যামেরার সামনে প্রশ্ন করা হলেও তিনি উত্তর দিতে চাননি। তবে সাংবাদিকরা যখন তাঁকে প্রশ্ন করেন যে দুর্নীতির ঘটনায় তিনি যুক্ত কিনা? সেই প্রশ্নের উত্তরে মাথা নেড়ে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীনবন্ধু ঘোষ বলেন, আমি দীর্ঘক্ষণ ধরে ধর্মচাঁদবাবুকে নির্দেশিকা অনুযায়ী বদলির নথিপত্র দিতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি নিতে অসম্মতি জানিয়েছেন। এর বেশি আমি আর কিছু বলতে পারব না।
উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বর মিড ডে মিলের খাবার নিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের গণ্ডগোল হয়। এরপর তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গত বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষককে বদলি করে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য শিক্ষাদপ্তর। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি বদলির নথিপত্র নিতে আগ্রহী নন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকদের একাংশ।
এদিকে, সন্ধ্যার পর প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই ফের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের কোয়ার্টারে থাকা এক শিক্ষকের কাছে নিজের অফিস ঘরের চাবি চান। কিন্তু ওই শিক্ষক দিতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্যদের জানান। ঘটনা শোনামাত্র তাঁরা স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নথিপত্র সরানোর চেষ্টার অভিযোগ করেন। এনিয়ে স্কুল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। রাতেই অবশ্য কোতোয়ালি থানার পুলিশ স্কুলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সারারাত স্কুলে পুলিশের প্রহরার ব্যবস্থাও করা হয়।