


সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর ১ ব্লকের ভাতজাংলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সুভাষনগর এলাকায় প্রায় চার বছর আগে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের পাইপলাইন বসানো হয়েছিল। কিন্তু এত বছরেও কল থেকে জল পেল না এলাকাবাসী। উপরন্তু, বাইরে কলের লাইন হওয়ায়, একাধিক বাড়ি থেকে কলের মুখ, পাইপ চুরি হয়ে যাচ্ছে। পাইপ লাইনের কাজ এত বছর আগে বসানো হলেও জল না পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, টাইম কলের জলের জন্য পাইপ বসিয়ে বলেছিল কয়েক মাসের মধ্যেই জল পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। কিন্তু কয়েকবছর কেটে গেলেও বাড়ি বাড়ি জলের পরিষেবা চালু হলো না। এক বছর মতো আগে এক জন এসে ছবি তুলে নিয়ে যায়। তিনিও বলেছিলেন খুব দ্রুত চালু হবে। কিন্তু এখনও সেটা হয়নি। এভাবেই তো বেশির ভাগ কাজ আশ্বাস দেয়, কাজ হয় আর কতটুকু। পঞ্চায়েত থেকে কিছুটা দূরে দূরে সজল ধারা প্রকল্পে জল নেওয়ার জায়গা করেছে। কিন্তু দূর থেকে সব সময় জল আনা সম্ভব হয়না। বিশেষ করে যাদের একটু বেশি বয়স হয়ে গেছে তাদের তো অত দূর গিয়ে জল আনা কোনভাবেই সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই তাদের বাড়ির টিউবয়েলের জল কিংবা কেনা জলের উপরেই নির্ভর করেই থাকতে হয়। তার উপর মাঝে মাঝেই দেখা যায় পাড়ার বিভিন্ন বাড়ি এবং রাস্তা থেকে টাইম কলের মুখ চুরি হয়ে যাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি জল প্রকল্প চালু হলে পাড়ার সমস্ত পরিবারের অনেক সুবিধা হতো।
এ বিষয়ে ভাতজাংলা পঞ্চায়েতের প্রধান বাবলু মন্ডল বলেন, জলের পাইপ লাইনের কাজ দেখাশুনা করে পিএইচই দপ্তর। আগে কাজ হলেও, পরে কিছুদিন বন্ধ হয়েছিল। আমরা আগেও ওই দপ্তরের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব সর্বত্র জল যাতে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে আবার কথা বলবো।
স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমল পাল বলেন, জল মানুষের সবথেকে প্রয়োজনীয় জিনিষ, কিন্তু এত বছর পাইপ লাইন বসানো হয়ে গেলেও জল পাওয়া গেল না। মানুষের এখন পাইপ লাইনের জল পাওয়া নিয়ে গুরুত্ব দেয়না ফলে টাইম কলের মুখ চুরির হচ্ছে। প্রশাসনের উচিৎ দ্রুত বাড়ি বাড়ি জলের পরিষেবা চালু করা।
স্থানীয় এক বৃদ্ধা রেখা দাস বলেন, বয়স তো অনেক হয়েছে, দূর থেকে জল আর বয়ে আনতে পারি নে। টাইম কলে জল এলে খুব সুবিধা হতো।
এই পরিস্থিতিতে সুভাষনগর এলাকার মানুষজন প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।