


অভিষেক পাল, বহরমপুর: নাবালিকা প্রসূতির চিকিৎসায় এবার জালিয়াতি! ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে। মুর্শিদাবাদে প্রতিটি মহকুমায় একাধিক নাবলিকার মা হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। এবার পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করা শুরু করেছে। তাই পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এখন ভুয়ো আধার কার্ড বানিয়ে সেগুলি জমা করছে প্রসূতির পরিবারের লোকেরা। বহরমপুরের বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমে এই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে।
যে সমস্ত পরিবার নাবালিকা কন্যাদের বিয়ে দেবে, তাদের অন্নপূর্ণা যোজনা সহ সমস্ত ধরনের সরকারি ভাতা ও সামাজিক সুবিধা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাল্যবিবাহের ঘটনার খবর পেলে পুলিশ সরাসরি অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে তুলে এনে গ্রেপ্তার করবে। এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আইন অমান্য করে যে সমস্ত পুরোহিত বা কাজী নাবালিকাদের বিয়ে দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ। বিভিন্ন জেলায় গোপনে আয়োজিত বাল্যবিবাহ রুখতে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে লাগাতার অভিযান শুরু হয়েছে। এবার সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। আর সেখানেই প্রতিদিনই একাধিক প্রসূতি নাবালিকা চিকিৎসা করাতে আসছেন। আইনের হাত থেকে বাঁচতে বয়স বাড়িয়ে দেখানো নকল আধার কার্ড সঙ্গে আনছে তারা।
অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ চক্রের মাধ্যমে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে সেগুলির সাহায্যে বেসরকারি হাসপাতালে অবৈধভাবে নাবালিকা প্রসূতিদের চিকিৎসা করানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক কিছু ছবি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা গেছে, ফতেমা খাতুন (নাম পরিবর্তিত) নামে এক নাবালিকার আধার কার্ডে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে ১৪ মার্চ ২০০৮ দেখানো হয়েছে। এই বয়সের হিসাব অনুযায়ী স্পষ্টতই তিনি আইনিভাবে নাবালিকা নন। অথচ এই ধরনের বিকৃত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বেসরকারি নার্সিংহোম ও চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রসবকালীন চিকিৎসা করানোর মতো ঘটনা ঘটছে।
আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে বা মাতৃত্বের ক্ষেত্রে পকসো আইন এবং শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত কঠোর বিধি বলবৎ রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে প্রসব সংক্রান্ত ঘটনায় আইনগতভাবে কঠোর পদক্ষেপ ও প্রশাসনের নজরদারি বাধ্যতামূলক। বয়স লুকিয়ে বা ভুয়া তথ্য দিয়ে এই আইনি প্রক্রিয়াকে এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এমন আধার কার্ড দেখলেই পুলিশকে খবর দিচ্ছে।
বহরমপুরের এক নার্সিংহোমের চিকিৎসক আকাশদীপ ঘোষ সম্প্রতি এই বিষয়ে পুলিশকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি পরিচয়পত্র যেমন আধার কার্ডের তথ্য পরিবর্তন বা ভুয়ো কার্ড তৈরি করা আক্ষরিক অর্থেই একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বয়স বাড়িয়ে সেই কার্ড বানিয়ে নার্সিংহোমগুলিতে রোগী ভর্তির সময় এবং কেস পেপার তৈরি করার সময় জমা দেওয়া হচ্ছে। আমরা খালি চোখে দেখেই বুঝতে পারছি কার্ডগুলি ভুয়ো। এমনকি রোগী দেখলেও বোঝা যায় নাবালিকা প্রসূতি। তখনই ওই আধার কার্ডের ঠিকানা অনুযায়ী স্থানীয় থানাকে জানাচ্ছি। সম্প্রতি রঘুনাথগঞ্জ, সূতি ও সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায় এমন নাবালিকাদের হদিস মিলছে। যাদের পরিবার এই ভুয়ো কার্ড নিয়ে চিকিৎসা করাতে আসছে।