


সংবাদদাতা, খড়্গপুর:দেশের প্রথম ‘ফিজিক্যাল এআই স্কুল’ তৈরি করতে চলেছে খড়্গপুর আইআইটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তবমুখী প্রয়োগ ঘটাতেইএই উদ্যোগ ভারতর প্রাচীনতম এই আইআইটির। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই সেখানে চালু হচ্ছে ফিজিক্যাল এআই-এর এমটেক কোর্স।পরবর্তীতে এই স্কুলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর একাধিক সংক্ষিপ্ত কোর্সও পড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী। সেই লক্ষ্যেই খড়্গপুর আইআইটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট প্রাক্তনী বিনোদ গুপ্ত এবং আইআইটি কেজিপি ফাউন্ডেশন ইউএসএ-র একটি ত্রিপাক্ষিক সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হচ্ছে ‘বেঞ্জামিন গুপ্ত স্কুল অব ফিজিক্যাল এআই’। প্রকল্পটির জন্য মোট ৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।
খড়্গপুর আইআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে বিনোদ গুপ্তের পরিবার ১২.৫ কোটি টাকা দেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তনী দেবেন ১০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ জোগাবে আইআইটি খড়্গপুর। বিনোদ গুপ্তের প্রয়াত পুত্র বেঞ্জামিন গুপ্তের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। আইআইটির ডিরেক্টর অধ্যাপক চক্রবর্তী বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল, বাস্তব জগতের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যুক্ত করে আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা। যেমন, চালক ছাড়া গাড়ি চালানোর প্রযুক্তি তৈরি করতে হলে প্রথমে গাড়ির গঠন, তার যন্ত্রাংশ এবং কাজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। এরপর সেই জ্ঞানের সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে যুক্ত করে গাড়িকে নিজে থেকে চলার উপযোগী করে তোলা যায়। একইভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানুষের শরীরের গঠন ও কাজ করার পদ্ধতি বুঝে তারপর এআইয়ের সাহায্যে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি তৈরির পথও খুলে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রচলিত এআই মূলত তথ্য বিশ্লেষণ, ছবি চেনা, ভাষা বোঝা এবং বিভিন্ন বিষয়ে পূর্বাভাস দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু, ফিজিক্যাল এআইয়ের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে সক্ষম যন্ত্রাংশ বা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে। ডিরেক্টর বলেন, ‘এই স্কুলের অন্যতম উদ্দেশ্য, রোবোটিক্স, পদার্থবিদ্যা সহ কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে এআইকে যুক্ত করে এই ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা। এই পরিকল্পনা শুধু একটি নির্দিষ্ট বিভাগের পড়ুয়াদের জন্য নয়। বরং বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থী ও পেশাদারদের জন্যও এই শিক্ষার সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, শুরুতে এমটেক পাঠক্রম দিয়ে শিক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু করার কথা ভাবা হয়েছে।’ খড়্গপুর আইআইটির এই উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে বলে আশা বিশেষজ্ঞদের।