


শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ইরানের পাস ক্লাব থেকে ইরাকের আল জাওরা। বিদেশি দলের বিরুদ্ধে বরাবরই উজ্জীবিত লড়াই উপহার দিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। বুধবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর বাছাই পর্বে আনোয়ার, জিকসনদের প্রতিপক্ষ কুয়েতের আল আরবি। স্বাধীনতা দিবসের তিনদিন আগে তেরঙা বুকে নিয়েই মাঠে নামবে মশাল বাহিনী। জিতলে মূলপর্বে পৌঁছানোর সুযোগ। অন্যথায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলবে ইস্ট বেঙ্গল। নক-আউট ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে গোল না হলে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ফয়সালা না হলে টাই-ব্রেকার ছাড়া গতি নেই।
২০১৩ সালে এএফসি কাপ সেমি-ফাইনালে যুবভারতীতে কুয়েত এফসি’র মুখোমুখি হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। পঞ্চাশ হাজারের যুবভারতীতে লাল-হলুদের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান কুতিনহো। আল আরবি ম্যাচের আগে ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে ফিরছে ১৩ বছর আগের স্মৃতি। প্রাক্তন ফুটবলার অর্ণব মণ্ডলের সতর্কবার্তা-‘কুয়েতের ক্লাব ফুটবল দারুণ শক্তিশালী। প্রচণ্ড গতিতে অপারেট করে। বুধবার টেকনিক্যালি পারফেক্ট হতে হবে আনোয়ারদের।’ কয়েক কিলোমিটার দূরে যুবভারতীতে সাংবাদিক বৈঠকে হাবাসের গলাতেও একই সুর। লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচের মন্তব্য, ‘শক্তিশালী বিপক্ষকে সম্মান করি। এই ম্যাচের আগে আরও প্রস্তুতি দরকার ছিল। বুদ্ধি করে খেলতে হবে।’ কোচের মগজাস্ত্রই লাল-হলুদের বড়ো ভরসা। পাশে বসা মহম্মদ রশিদের চোয়াল শক্ত। গত মরশুমে আইএসএল জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি। প্যালেস্তাইন জাতীয় দলে তাঁরই সতীর্থ ছিলেন জাইদ। স্বদেশি জাইদের বিরুদ্ধে দ্বৈরথে নামতে তৈরি রশিদ। বললেন, ‘এশিয়ার মঞ্চে মাথা তোলার সুযোগ। সবটুকু উজাড় করে দিতে হবে।’ ফুটবলারদের এই তাগিদই হাবাসের ভরসা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুবভারতীর মূল মাঠে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল ইস্ট বেঙ্গলের। কিন্তু অনুশীলনের আগেই বিপত্তি। বৃষ্টিতে নিউটাউনের একাধিক এলাকায় জল দাঁড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে শুরু হয় অনুশীলন। ওয়ার্ম-আপের পর কিছু টেকনিক্যাল মুভমেন্ট প্র্যাকটিস করিয়েই দাঁড়ি টানলেন হাবাস। সিঙ্গল স্ট্রাইকার হিসাবে জেসিন বা ডেভিডকে রেখেই দল সাজানোর ভাবনা থিঙ্কট্যাঙ্কের। তবে স্প্যানিশ কোচের মেজাজ সপ্তমে। তাঁর পরামর্শেই স্প্যানিশ স্টপার নাচোকে সই করিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। কিন্তু শুরু থেকেই চোটে কাবু তিনি। তাঁকে নিয়ে বিরক্ত ম্যানেজমেন্টও। এই প্রসঙ্গে হাবাসের মন্তব্য, ‘ওর চোট। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাইছি না।’ নাচো কিন্তু নাচিয়ে যাচ্ছেন বেশ। তিনি না থাকায় ভারতীয় রক্ষণভাগ নিয়েই ৬ বিদেশি সমৃদ্ধ আল আরবিকে সামলাতে হবে। সেক্ষেত্রে দুই উইং ব্যাক হার্দিক ভাট ও জয় গুপ্তার অ্যাসিড টেস্ট। বিদেশিহীন রক্ষণ। স্ট্রাইকারে নাইজেরিয়ান এফিয়ং এখনো আসেননি। চাপে থাকা হাবাস ব্রিগেডকে ঘরের মাঠে জনসমর্থনই তাতাতে পারে। অভিজ্ঞ হাবাস বললেন, ‘ফুটবলাররা লড়বে। গ্যালারি থেকে মারকাটারি সমর্থনও প্রয়োজন।’ লাল-হলুদ সমর্থকরা কি হাবাসের আহ্বান শুনতে পেলেন? যুবভারতীতে ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা সাতটায়।সরাসরি সম্প্রচার ফ্যান কোড অ্যাপে।