


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ‘মৎস্য মারিব, খাইব সুখে’। মাছে-ভাতে বাঙালির এই হল অনন্ত বাসনা! যদিও সিংহভাগ আম বাঙালিরই এই স্বপ্ন অধরা থেকে যায়। কিন্তু বেলঘরিয়ার নন্দননগর ঝিলপাড় লাগোয়া বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ তো বটেই, উত্তর শহরতলির বহু মানুষের কাছে এখন এটাই বাস্তব! রাজ্যে পালাবদল তাঁদের কাছে এমন ‘সুযোগ’ এনে দিয়েছে! তৃণমূল নেতার ঝিলে গত কয়েক মাস ধরে চলছে দেদার মাছ ধরা। ১০-১৫ কেজির রুই-কাতলা থেকে চারাপোনা, কই, মাগুরের মতো জিওল মাছ গাঁথছে বড়শিতে। ঝিলপাড়েই বানানো হচ্ছে মাছের জন্য হরেক উপাদেয় খাবার (চার)। কী নেই সেই মেনুতে! খাঁটি ঘি, মধু, পিঁপড়ের ডিম থেকে নানা উপাদান দিয়ে টোপ ফেলছেন বাঘা বাঘা সব মৎস্যশিকারী। ছুটির দিন তো বটেই, সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতেও অবাধে চলছে মাছ ধরা।
কামারহাটি ও উত্তর দমদম পুরসভার সীমান্তে নন্দননগর ঝিল। ৭০-৮০ বিঘার এই বিশাল ঝিলের মালিকের বাড়ি বরানগরের আলমবাজারে। যদিও ঝিলের মালিকানা নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। সেই মালিকদের থেকে ঝিলটি ২৯ বছরের লিজে নিয়েছিলেন উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস। বিশাল এই ঝিলে কামারহাটি ও উত্তর দমদমের অনেক ওয়ার্ডের নিকাশিনালা এসে পড়েছে। তাই প্রত্যেক বছর বর্ষার আগে বেশিরভাগ মাছ ধরে নেওয়া হত। এই বিশাল ঝিলে ৮০ থেকে ৯০ টন মাছ থাকত। তার মধ্যে ১০-১৫ কেজির বড়ো কাতলা, রুই ছাড়াও বড় মৃগেল, গ্যাসকার্প, শোল, বোয়াল, সিঙি, মাগুর মাছে ভরা ছিল। এছাড়া চারা রুই, কাতলা, মৃগেল, বাটা, সিলভার কার্পের মতো সমস্ত ধরনের ‘সাদা’ মাছের চাষ হত। ১ কোটিরও বেশি টাকার বেশি মাছ ছিল ঝিলে। প্রভাবশালী বিধানবাবুর কর্মীরা রাতদিন ঝিল পাহারা দিত। ঝিল ভরা মাছ শুধু দেখে যেতেন স্থানীয়রা!
মে মাসে পালাবদল হতে না হতেই চিত্রটা আমূল বদলে যায়। শুরু হয় অবাধে মাছ ধরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিপ ফেলার পাশাপাশি কারেন্ট জাল পেতে মাছ ধরা শুরু হয়। বর্ষার জল ঢোকা ছাড়াও একাধিক কারণে সকালে পুকুরে মাছ ভাসলে তখন রীতিমতো প্রতিযোগিতার আবহে কুইন্টাল কুইন্টাল মাছ ধরা হচ্ছে। সোমবার ঝিলে হুইল বড়শি নিয়ে মাছ ধরছিলেন দমদমের প্রসূন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘রবিবার ২০ কেজি মাছ পেয়েছি। তাই আজ আবার এসেছি।’ বেহালা থেকেও অভিজ্ঞ শিকারিরা আসছেন ফ্রিতে মাছ ধরতে। বড়শিতে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় যুবক সৌরভ শীল। তাঁর কথায়, ‘রবিবার আসুন বড়শি নিয়ে। বসার জায়গা পাবেন না। সবাই তো মাছ ধরছে। আগে আমরা এই ঝিলে মাছের দিকে তাকাতেও ভয় পেতাম। এখন ইচ্ছে মতো সবাই ধরছে।’ অবাধে মাছ ধরা নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্যই করতে চাননি বিধানবাবু। তিনি শুধু বললেন, ‘সবাই সব কিছু দেখছে।’