


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার কি তবে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের শুখা নদে তহবিলের বান ডাকবে? পশ্চিমবঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হতে চলায় অন্তত এই দিক থেকে আশাবাদী শিক্ষামহল। কী স্কুলশিক্ষা, কী উচ্চশিক্ষা—দুই জায়গাতেই কেন্দ্র-রাজ্য বোঝাপড়ার অভাবে দিল্লির কাছে বকেয়া হয়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকা। সেই অর্থ রাজ্যে ঢুকতে শুরু করলে শিক্ষাক্ষেত্র অনেকটাই উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন শিক্ষক-গবেষকরা।
কেন্দ্রীয় সরকার সমগ্র শিক্ষা মিশনের (এসএসএম) প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে বলেই দাবি আধিকারিকদের। এর কারণ হল, এই টাকা পেতে হলে কেন্দ্রের সঙ্গে পিএমশ্রী বা প্রাইম মিনিস্টার্স স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া প্রকল্পের জন্য মউ স্বাক্ষর করতে হয় রাজ্যকে। যদিও, এসএসএমে এই শর্ত আগে থেকে ছিল না। এই পিএমশ্রী প্রকল্পের অধীনে প্রত্যন্ত এলাকায় মডেল স্কুল তৈরি করা হয়। কেন্দ্র এবং রাজ্যে ৬০:৪০ অনুপাতে অনুদান দেয়। তবে, প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকায় তৃণমূল সরকার এই মউ স্বাক্ষরে অস্বীকার করে। ফলে সব মিলিয়ে প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা এখনো আসেনি রাজ্যে। এতে রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় ফান্ডের অভাবে নাভিশ্বাস উঠেছে। রাজ্য সরকারই একতরফা ফান্ড দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছিল। এবার হয়তো সেই পরিস্থিতি কাটবে। পরিস্থিতি এমনও হয়, সমগ্র শিক্ষা মিশনের কর্মী, আধিকারিকদের মার্চের বেতন মাসের ৪ তারিখে দিতে বাধ্য হয় বিদায়ী সরকার। পরবর্তীতে অবশ্য সেই সমস্যা হয়নি। একই অবস্থা উচ্চশিক্ষায়। এখনও রুসা ২.০ বা রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযানের দ্বিতীয় সংস্করণের কয়েকশো কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে বকেয়া। রাষ্ট্রীয় শব্দটি তুলে প্রধানমন্ত্রী উচ্চতর শিক্ষা অভিযান বা পিএম উষা নাম দিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে নতুন করে চালু করা হয় প্রকল্পটি। এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় একটি শর্ত। জাতীয় শিক্ষানীতি অক্ষরে অক্ষরে মেনে না চললে এই টাকা দেওয়া হবে না। পশ্চিমবঙ্গে চালু রয়েছে রাজ্য শিক্ষানীতি। সেটি জাতীয় শিক্ষানীতির ভিত্তিতে তৈরি হলেও বেশ কিছু ফারাকও রয়েছে। তাই পিএম উষা এখনো এরাজ্যে চালুই হয়নি। যাদবপুর বা কলকাতায় এখনো রুসার ভালো পরিমাণ টাকা আটকে রয়েছে। বহুদিন আটকে থাকার পর, গতমাসের শেষের দিকে ক্যাটিগরি ১ গবেষকদের ৬৯ হাজার টাকা মিটিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। তবে, ক্যাটিগরি ২ গবেষকদের ৯৬ হাজার টাকা করে এখনো দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ধাপে ধাপে জাতীয় শিক্ষানীতির সবকিছুই মেনে নিচ্ছে। মাল্টিডিসিপ্লিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটি হলে মউ স্বাক্ষরের পর পিএম উষার ফান্ড প্রাপ্য হবে তাদের। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে স্নাতকস্তরে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক কারণে রাজ্য সরকার মউ স্বাক্ষর করেনি। সেটা হয়ে গেলে অনুদান আসতে বাধা হবে না। এবার সেই বাধা কেটে যাওয়ায় আশায় শিক্ষামহল।