


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের রাজ্যের ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার নথিভুক্ত করার অভিযোগ! যে কারণে এবার কমিশনের র্যাডারে রাজ্যের তিন ইলেকশন রিটার্নিং অফিসার বা ইআরও। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সতর্কতার একাধিক নির্দেশ সত্ত্বেও তা তোয়াক্কা না করেই কাজ চলছে। অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাটের ইআরও কমিশনের নির্দেশকে উপেক্ষা করেই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার কাজ করেছেন। যে কারণে এই তিন ইআরও’কে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কোন নথির ভিত্তিতে তাঁরা শতাধিক ভোটারকে তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সেই তথ্য চাওয়া হয়েছে ওই তিন ইআরও’র কাছে। সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জরুরি ভিত্তিতে এই তিন ইআরও’কে তলব করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সিইও দপ্তরে ওই তিন ইআরও’র অন্তর্গত তালিকা অনলাইনে যাচাই করার সময়ই গাফিলতে ধরা পড়ে বলে জানা দিয়েছে। ওই তিন ইআরও’র কাছে এবিষয়ে জবাব তলব করা হলেও, তাঁরা কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে খবর। তারপরই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কোন নথির ভিত্তিতে ‘ভুয়ো’ ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা জানাতে হবে এই তিন ইআরওকে।
কমিশন সূত্রে খবর, এই তিন ইআরও’র তরফে শোকজের সঠিক জবাব না মিললে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটবে কমিশন। উল্লেখ্য, এর আগে ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগে কাকদ্বীপ মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজারকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় বেশ কিছু নাম অদ্ভুতভাবে তোলা হচ্ছিল। একই সঙ্গে নাম বাদও দেওয়া হচ্ছিল। কাকদ্বীপ থেকেই অভিযোগ সবথেকে বেশি ছিল। তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান জেলাশাসক। তার পরই ওই কর্মীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।