


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: চাঁদনি চকের বাজারজুড়ে ক্রমাগত ঘোষণা হয়ে চলেছে কয়েকটি সতর্কবার্তা। ‘কোনও অপরিচিত ব্যক্তিকে আপনার লজ বা ঘর ভাড়া দেবেন না। আগে ভালো করে তাঁর পরিচয় যাচাই করুন।’ অথবা ‘সচিত্র পরিচয়পত্র খতিয়ে না দেখে কোনও ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে জড়াবেন না।’ কখনও আবার বলা হচ্ছে, ‘কেউ যদি সচিত্র পরিচয়পত্র দেখাতে অস্বীকার করেন, অবিলম্বে ১০০ নম্বরে ফোন করুন।’ দিল্লি পুলিস যেসব জায়গায় বিশেষভাবে এই ঘোষণা চালাচ্ছে, তার থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই লালকেল্লা।
আজ, শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসে এখানেই ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে লালকেল্লাকে যে আক্ষরিক অর্থেই দুর্গে পরিণত করে ফেলা হবে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু লালকেল্লার অদূরে চাঁদনি চক বা জামা মসজিদ চত্বরজুড়েও নিরাপত্তার বলয়। ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা সতর্কতা এসেছে, স্বাধীনতা দিবসের আগে-পরে দেশের রাজধানী শহরে হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা। লালকেল্লার কাছেই চাঁদনি চকজুড়ে তাই ‘অপরিচিত’ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার সাবধানবাণীই বুঝিয়ে দিচ্ছে, কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
দিল্লির চাঁদনি চক সবসময়ই জমজমাট। মাত্রাছাড়া ভিড়ের কারণে মাঝেমধ্যে দু’টো মানুষ পাশাপাশি হেঁটে যেতে পারেন না। কিন্তু বৃহস্পতিবার, প্রাক-স্বাধীনতা দিবসে চাঁদনি চকে পা দিতেই মনে হল, বাংলার বাম আমলের কোনও হরতাল-দিন ফিরে এসেছে বুঝি! চারিদিক শুনশান। অধিকাংশ দোকান বন্ধ। জায়গায় জায়গায় গার্ডরেল। পুলিসের মেটাল ডোর ফ্রেম। লালকেল্লায় মাছি গলার জায়গা নেই। পুলিসে পুলিসে ছয়লাপ। বালির বস্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাঙ্কার। ওয়াচ-টাওয়ার থেকে চলছে নজরদারি। মোবাইলে ছবি তুলতে গেলেও ধেয়ে আসছে পুলিসের প্রশ্নবাণ। রাস্তার ধারে গাড়ি পার্কিং তো দূর অস্ত। লালকেল্লার সামনে এক মুহূর্ত দাঁড়াতে গেলেও সামনে থেকে হটিয়ে দিচ্ছে পুলিস। স্বাভাবিক কারণেই সুরক্ষার প্রশ্নে লালকেল্লায় পর্যটকদের প্রবেশাধিকার নেই। না জেনে চলে এসেছিলেন এক মাঝবয়সি দম্পতি। ব্যারিকেড পেরিয়ে ঢুকতে গিয়ে দফায় দফায় পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের। কঠোর নিরাপত্তা নিউদিল্লি সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল এবং মেট্রো স্টেশনেও।