


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলা ও অসমের ভোট ২০২৬ সালে। সেই কারণেই কি ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর) নিয়ে সেন্সাসের প্রথম ধাপে এগতে চাইছে না কেন্দ্র? সেন্সাস সংক্রান্ত তিনদিনের বৈঠকে শেষে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ সেন্সাসের দপ্তর থেকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে। তিনদিনের বৈঠকে যেমন এনপিআর নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি, তেমনই স্ট্যাটাস রিপোর্টেও কিছু বলা হয়নি। সেই কারণেই মনে করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের হাউস লিস্টিং প্রক্রিয়া ১ এপ্রিল থেকে শুরু হলেও, পাশাপাশি এনপিআর তৈরির কাজ শুরু হবে না। যদিও সেন্সাস দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, এনপিআর ছাড়া সেন্সাস সম্পূর্ণ হবে না। ২০১০ সালে শুরু হওয়া সেন্সাসেও পৃথকভাবে এনপিআর হয়েছে। এবারও করতে হবে। তবে ভোটের ঠিক প্রাক্কালে যেহেতু শুরু হচ্ছে, সেই কারণে এনপিআর সম্ভবত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
যদিও আগে স্থির হয়েছিল হাউস লিস্টিং প্রক্রিয়ার সঙ্গেই চলবে এনপিআর। এনপিআরে যে প্রশ্নগুলি থাকবে সেগুলির সঙ্গে প্রধান সাদৃশ্য ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের। এই প্রধানতম সাদৃশ্য হল, এই এই দুই প্রক্রিয়াতেই প্রশ্ন করা হবে বর্তমান ঠিকানায় কতদিন ধরে কেউ থাকে, এর আগে কোথাও থাকত, জন্মতারিখ ও স্থানের নথি। বিহারের পর বাংলায় এই ইন্টেনসিভ রিভিশন হবে। সুতরাং সেটি নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, সেই একই বিতর্ক এনপিআরকে কেন্দ্র করে হওয়ার সম্ভাবনা। করোনার আগে যখন সেন্সাস প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন বিভিন্ন বিরোধী দল এনপিআরের বিরোধিতা করেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনওভাবেই তিনি এনপিআর মেনে নেবেন না। বাংলার ভোটের আগে তাই আর নতুন করে এনপিআর ইস্যুতে বিতর্ক তৈরি থেকে বিরত থাকছে সরকার। সেই কারণেই এনপিআর নিয়ে ধীরে চলো নীতি। এনপিআরের মতোই কাস্ট সেন্সাস হবে বলে সিদ্ধান্ত হলেও কাস্ট সেন্সাসের রূপরেখাই এখনও তৈরি করা যায়নি। রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া যে তিনদিনের বৈঠক সেন্সাস প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে করেছে, সেখানে সবথেকে বেশি প্রশ্ন উঠেছে কাস্ট সেন্সাস নিয়ে। কিন্তু কাস্ট সেন্সাসের মেথডোলজি কী হবে সেটা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তই হয়নি। তবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের আগে কোনও কাস্ট সেন্সাস হচ্ছে না। এনপিআর মানেই ঘুরপথে এনআরসি। এই প্রচারকে ঠেকাতেই ভোটের আগে এনপিআর করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।