


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টানা ৬ বছরের বেশি সময় ধরে খাদ্যদপ্তরের প্রধান সচিবের দায়িত্ব সামলানো আইএএস পারভেজ আমেদ সিদ্দিকিকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ স্টেট গেজেটিয়ারের দায়িত্বে পাঠানো হল। খাদ্যদপ্তরের সচিব হলেন জগদীশপ্রসাদ মিনা। তিনি মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরে ছিলেন। বিভিন্ন দপ্তর ও অন্যান্য দায়িত্বে থাকা মোট ১৮ জন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব ও সচিব পর্যায়ের আইএএস আধিকারিকের রদবদল করা হয়েছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক একমাসের মাথায় বিভিন্ন দপ্তরের সচিব পদে প্রথম রদবদল করা হল।
উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমও অনেক বছর ধরে টানা একই দপ্তরে থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন এই দফায় হয়নি। এই রদবদলের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর বদলি। তাঁকে সায়েন্স টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজির সঙ্গে আবাসন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব করা হয়েছে। রাজ্যে ভোট ঘোষণার পরেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকে মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরানো হয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকেও। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নন্দিনী চক্রবর্তীকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে একটি বিশেষ পদে (প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর অব ডেভেলপমেন্ট) নিয়ে আসা হয়। সীমান্ত এলাকায় ফেন্সিং ও আউটপোস্ট তৈরির জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়ার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তাঁকে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রক্রিয়া এখনো চললেও কেন তাঁকে একমাসের মধ্যেই কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হল, সেই প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক মহলে। পারভেজ আমেদ সিদ্দিকিকে ভোট পর্বের মধ্যে বদলি করা না-হলেও তাঁকে নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়েছিল। খাদ্যদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রধান সচিবকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ফলে খাদ্যদপ্তরের মতো জনস্বার্থের দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজকর্ম ব্যাহত হবে বলে তাঁর আশঙ্কা ছিল।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ১৭ এপ্রিল পারভেজ আমেদ খাদ্যদপ্তরের দায়িত্বে আসেন। তখন তিনি সচিব পর্যায়ের আধিকারিক ছিলেন। বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে খাদ্যদপ্তর থেকে বদলি করে তাঁকে আনা হয়। ২০২১ সালে ভোটের পর দুই দফার খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জায়গায় রথীন ঘোষকে এই দপ্তরের মন্ত্রী করা হয়।
খাদ্যদপ্তরের অন্দরের খবর অনুযায়ী, ওইসময় থেকে দপ্তরটি কার্যত ‘নিয়ন্ত্রণ’ করতেন সচিব। এই অবস্থায় খাদ্যমন্ত্রী নিজে অফিসে কম সময় থাকতেন। সরকারি সূত্রের খবর, তাঁকে যে দপ্তরে বিশেষ কিছু করতে দেওয়া হচ্ছে না এই অভিযোগ শীর্ষ মহলে জানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। কিন্তু তারপরও বিশেষ কিছু পরিবর্তন হয়নি।
এই দফার রদবদলে রবি ইন্দার সিং পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিব হয়েছেন। সৌমিত্র মোহন রাজ্যপালের সচিবের পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিবের পদ সামলাবেন। সুরেন্দ্র গুপ্তা ভূমিদপ্তরের প্রধান সচিব হয়েছেন। অনুপকুমার আগরওয়াল হলেন ছোটো-মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব। রাজীব কুমারর কারিগরি শিক্ষাদপ্তরের প্রধান সচিব, রাজেশ পান্ডে ক্রীড়াদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, মৌমিতা গোদারা স্বাস্থ্যদপ্তরের সচিব হয়েছেন।