


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ১৯৫৪ সালের স্লোগান ছিল হিন্দি-চীনি ভাই ভাই। কিন্তু ক্রমেই দলাই লামার ভারত প্রবেশের পর থেকে সম্পর্কের সেই যে অবনতি শুরু হল, তা আর মেরামত হয়নি। যুদ্ধ কিংবা শীতল সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে বহু বছর। এর উপর ২০২০ সালের এপ্রিলে গলওয়ান সংঘর্ষের পর সম্পর্ক ফের তলানিতে। কিন্তু আচমকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ চীন ও ভারতকে ফের কাছাকাছি এনে দিয়েছে। এই নয়া মৈত্রীবন্ধনের বার্তা এতই তীব্র যে, পাঁচ বছর সবরকম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বন্ধ থাকার পর, ফের বরফ শুধু যে গলছে তাই নয়, রীতিমতো যেন হিন্দি-চীনি ভাই ভাই পর্যায়ে যেতে চলেছে। মঙ্গলবার চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়ে দিন, ভারত ও চীনের মধ্যে নতুন এক সম্পর্কের দিগন্ত শুরু হচ্ছে। বিগত দিনে সীমান্ত সংঘাত ও অন্যান্য কারণে বস্তুত দুই দেশেরই ক্ষতি হয়েছে। এমন নয় যে, সংঘর্ষে একটিমাত্র দেশেরই লোকসান হয়। দু’পক্ষই সঙ্কটে পড়ে। অতএব এখন সেই সংঘাত অতীত। বৈঠকের পর অজিত দোভাল বলেছেন, সীমান্ত এখন শান্ত। সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। চীন ও ভারতের স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভস মেকানিজম স্তরের বৈঠকের পর দোভাল ঘোষাণ করেন, শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাবেন বেজিং। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে যোগ দিতে। জানা যাচ্ছে, ওই সম্মেলনে যোগ দিয়ে মোদি এবং জি জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্ক মোকাবিলায় স্ট্র্যাটেজি তৈরি করবেন। সেই মৈত্রীর আবহ তৈরির জন্যই বিদেশমন্ত্রী স্তরের সফরের পর আজই চীন জানিয়ে দিয়েছে, ভারতকে রেয়ার আর্থ এবং ক্রিটিকাল মিনারেলস এবং সার রপ্তানি করা হবে। প্রসঙ্গত ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার পরই চীন সর্বাগ্রে রেয়ার আর্থ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সব দেশেই চীন নিয়ন্ত্রণ করেছে রেয়ার আর্থ পাঠানো। যা সামগ্রিকভাবে সঙ্কটে ফেলবে সবথেকে বেশি আমেরিকাকেই। এবার সেই রেয়ার আর্থ মিনারেলস রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তথা নিয়ন্ত্রণ ভারতের ক্ষেত্রে শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছে চীন। এই ঘটনা নিশ্চিতভাবেই আমেরিকাকে ক্ষুব্ধ করবে। কারণ,এই সিদ্ধান্তের স্পষ্ট বার্তা হল, ভারত ও চীন কাছাকাছি হচ্ছে। আর পিছনে রয়েছে রাশিয়া। সুতরাং আমেরিকার কাছে এই বার্তা প্রবল অস্বস্তিকর। ঠিক এটাই চাইছে ভারত ও চীন।