


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও কলকাতা: গত ১০ আগস্ট বাম শ্রমিক-কৃষক-খেতমজুর সংগঠনগুলোর ডাকে জেল ভরো কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচির জেরে ১৫ দিন পরে সিপিএমের উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা অধ্যাপক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ সহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে তোলা হলে বিচারক অবশ্য জামিন দিয়েছেন। আদালতে যাওয়ার পথে শ্রুতিনাথ বলেন, ‘মেহনতি মানুষের জন্য লড়াই করতে গিয়েছিলাম। তাই গ্রেপ্তার হয়েছি। মানুষের জন্য লড়াই অপরাধ হলে আবারও তা করব।’ এদিন জামিন পাওয়ার পরে নেতা-কর্মীদের বরণ করতে চুঁচুড়ায় এসেছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তাঁরা মালা পরিয়ে নেতা-কর্মীদের সংবর্ধনা দেন। মীনাক্ষী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকার চলছে। আমাদের গ্রেপ্তার হতে হবে ভেবেই পথে নেমেছি। আমরা পথেই থাকব।’ সিপিএমের অভিযোগ, রাত ২টো নাগাদ বাড়ি থেকে শ্রুতিনাথ সহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বামেরা এই গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট বলেই অভিহিত করতে চান। বাম কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, বারুইপুরে লাহেক আলি থেকে শ্রুতিনাথ প্রহরাজ, একই ট্র্যাডিশন চলছে।
সিপিএমের হুগলি জেলার সম্পাদক তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘বিজেপি আরএসএসের লোকেরা পুলিশকে দিয়ে এসব করাচ্ছে। এসব যত করবে, তত প্রতিরোধ বাড়বে। এরা তৃণমূলকে ছাপিয়ে গিয়েছে।’ এই বিষয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘পুরানো কায়দায় রাতের অন্ধকারে বিরোধীদের উপর পুলিশি আক্রমণ নেমে আসছে। বিরোধী শূন্য বা পেটোয়া বিরোধী তৈরি করার খেলায় মত্ত সরকার। আগের সরকারও এভাবেই বিরোধী শূন্য করতে চেয়েছিল।’ তাৎপর্যপূর্ণভাবে বামেদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কালীঘাট-তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিনি বলেন, বিজেপি’র রাজত্বে ন্যায়ের পক্ষ নেওয়া এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই অপরাধ। পুলিশ, বিজেপি’র দলদাস হয়ে গিয়েছে। চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ অবশ্য বলেন, আইন না ভাঙলে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করে না।