


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্মীদের অনেকেই দেরিতে কাজে আসছেন। তাঁদের যুক্তি, থানা তাঁদের দেরি করে জানিয়েছে। কেউ কেউ আবার হাজিরই হতেন না ডিউটিতে। অথচ খাতায় কলমে তাঁরা উপস্থিত। লোকবলের অভাবে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছিল কর্তাদের। এই ফাঁকিবাজি বন্ধ করতে নতুন অ্যাপ আনল কলকাতা পুলিশ। ঠিক হয়েছে, ওই অ্যাপের মাধ্যমেই পুলিশ কর্মীদের ডিউটি জানিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে সময় সহ ছবি তুলে সেটি আপলোড করবেন ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীরা।
প্রতিদিনই কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটি পড়ে পুলিশ কর্মীদের। কোথায় কত সংখ্যক পুলিশকর্মী থাকবেন, তা ঠিক হয় সেই সভাস্থলে কত মানুষ আসবেন, তার নিরিখে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ডিভিশন থেকে কতজন পুলিশকর্মী ডিউটিতে রাখা হবে, সেই তালিকা পাঠানো হয় সদর দপ্তরে। সেইমতো লালবাজার বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মীরা কোথায় ডিউটি করবেন, তা ঠিক করে। সেই তালিকা সমস্ত ডিভিশনে পৌঁছে যায়। পূর্বতন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিকে তেমন গুরুত্ব দিত না থানাগুলি। যে কারণে বিভিন্ন ডিভিশনের অফিসে পুলিশ কর্মীদের নাম পৌঁছাত না। অনেক সময় থানা আবার শেষ মূহূর্তে জানাত, তারা কত সংখ্যক পুলিশকর্মী দিতে পারবে। পরিকল্পনা সাজাতে রীতিমতো কালঘাম ছুটত আধিকারিকদের। গোটাটাই চলছিল বিশৃঙ্খলার সঙ্গে। ডিউটি দেওয়ার পরেও বহু পুলিশকর্মী স্পটে পৌঁছাতেন দেরিতে। তাঁরা দেরিতে আসার জন্য থানা থেকে পরে জানানো হয়েছে বা অন্য কারণ দেখাতেন। আবার অনেকেই ডিউটিস্থলে হাজিরই হতেন না।
তৃণমূল জমানায় ফোর্সে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিয়েছিল। পালাবদলের পর বিষয়টি নজরে আসে লালবাজারের কর্তাদের। সিদ্ধান্ত হয়, একটি অ্যাপ চালু করা হবে। এই অ্যাপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে কত সংখ্যক পুলিশ কর্মী কোন থানা থেকে থাকবেন, তাঁদের নামের তালিকা দেওয়া থাকবে। সেই অ্যাপ দেখে থানার ওসিরা নীচুতলার কর্মীদের জানিয়ে দেবেন, কার কোথায় ডিউটি। পাশাপাশি ডিউটিস্থলে হাজির হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীকে ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করতে হবে। যাতে প্রমাণ থাকে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। গোটা ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড হওয়ায় ফোর্সে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি ফাঁকিবাজি পুরোপুরি কমে যাবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।