


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পুজোর আগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ে। বিধাননগরে অতীতে এই রেকর্ড আছে। জেলার অন্যান্য পুরসভার তুলনায় আক্রান্তের নিরিখে একাধিকবার প্রথম স্থান পেয়েছে বিধাননগর। তবে এবার পুজোর আগে স্বস্তির শ্বাস নিচ্ছেন পুরসভার কর্তা থেকে শহরের নাগরিকরা। কারণ গতবছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যাপ্ত ১৬০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন ডেঙ্গুতে। এবার বিধাননগরে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২। অর্থাৎ চারগুণ কম। আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি, আগামী বছর ডেঙ্গু শূন্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সারা বছরের হিসাব রাখা হয়। ২০১৭ সালে বিধাননগর পুরসভার ৪১টি ওয়ার্ড থেকে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিন হাজারেরও বেশি। তারপর কয়েক বছর আক্রান্তের সংখ্যা কমে। তবে ২০২২ সালে বিধাননগর পুরসভা ২০১৭ সালের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরি করে। সেবার ৪ হাজার ২২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালেও প্রায় ৩ হাজার ৯৫৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। পরপর দু’বছর বাড়বাড়ন্তের অভিজ্ঞতা থেকে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ডেঙ্গু সংক্রমণের উপর বিশেষ জোর দেয় পুরসভা। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯০ এবং ২০২৫ সালে ৪৪০। পরপর দু’বারই পাঁচশোর নীচে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা।
এবারও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে পুরসভা। পালাবদলের পর পুরসভার বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। বেশিরভাগ কাউন্সিলার এলাকায় নেই। পুরসভায় বসানো হয়েছে প্রশাসক। তবে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। সচেতনতা বৃদ্ধি, বাড়ি বাড়ি অভিযান, জ্বরের তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ চলছে। পুরসভার দাবি, ডেঙ্গু এভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এবছর আক্রান্তের সংখ্যা ২০২৪ সালের থেকেও কম হবে।