


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বরাবর বিনামূল্যেই প্রাতর্ভ্রমণ করতেন আবাসিকরা। তবে ২০২২ সালে সল্টলেক বনবিতানে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের জন্য চালু করা হয়েছিল প্রবেশমূল্য। তা নিয়ে বহু আন্দোলন, বিক্ষোভও হয়েছিল। কিন্তু ফল হয়নি। অবশেষে শহরের নাগরিকদের কথা চিন্তা করে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের জন্য প্রবেশমূল্য তুলে দিল রাজ্য সরকার। শনিবার ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের গ্রিন প্রজেক্ট উইং থেকে এ ব্যাপারে নোটিসও দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বনবিতান বায়ো-ডায়ভারসিটি পার্কে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের কোনো প্রবেশমূল্য লাগবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি শহরের নাগরিকরা। বেশিরভাগ প্রবীণ নাগরিক সেখানে প্রাতর্ভ্রমণে যান। রবিবার সকাল থেকে নাগরিকরা ফ্রি পরিষেবা পাচ্ছেন। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে রয়েছে বনবিতান। গাছপালা দিয়ে সজ্জিত এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চারেক আগে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাতর্ভ্রমণকারীদের জন্য প্রতিদিন ১০ টাকা (একবার) প্রবেশমূল্য চালু করা হয়। অর্থাৎ বছরে ৩ হাজার টাকা। বর্তমান সরকার এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে এবং প্রবেশমূল্য তুলে দেয়। তবে ভোর ৫টা থেকে ৭টা এই সময়ের জন্যই প্রবেশমূল্য লাগবে না। সকাল ৭টা থেকে টিকিট কাউন্টার খোলে। কেউ যদি সকাল ৭টার পর প্রাতর্ভ্রমণে যান তাহলে তাঁকে ১০ টাকা টিকিট কেটে ঢুকতে হবে। সকাল ৯টার পর যাঁরা এখানে বেড়াতে আসেন, তাঁদের জনপ্রতি ৫০ টাকা প্রবেশমূল্যই থাকছে। ক্যামেরার জন্য পৃথক টাকা। তবে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রবেশমূল্য ফ্রি করে দেওয়ায় বেশিরভাগ প্রাতর্ভ্রমণকারী খুশি। বিধাননগরের বিধায়ক ও রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় নিজের পোস্টে লিখেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি শুধু দেওয়ার জন্য নয় তা পূরণ করার জন্য। নির্বাচনের সময় আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বনবিতান বায়োডাইভারসিটি পার্ক (সেন্ট্রাল পার্ক), বিধাননগরে সকালবেলার হাঁটাচলাকারীদের জন্য দৈনিক প্রবেশমূল্য তুলে দেওয়া হবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৯ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত বনবিতান বায়োডাইভারসিটি পার্কে (সেন্ট্রাল পার্ক) মর্নিং ওয়াকারদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।’ ফাইল চিত্র