


নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদে সাড়ে চার বছর ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু, এই সফর কখনই সুখকর ছিল না। বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। নিটের প্রশ্নফাঁস থেকে শুরু করে তিনভাষা নীতি, পরীক্ষা আয়োজনকারী সংস্থা—এনটিএকে নিয়েও বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপি সাংসদকে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যে, ২০২৪ সালে নিটে অনিয়ম নিয়েই সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে শপথ গ্রহণের সময়ও থমকাতে হয়েছিল তাঁকে।
তথ্য বলছে, ধর্মেন্দ্রর সময়কালে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএকে নিয়ে। নিট, জেইই, সিইউইটি, এনইটির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আয়োজন করে তারা। কিন্তু, বিগত কয়েকবছরে প্রযুক্তিগত ত্রুটি,বিভ্রান্তিকর গ্রেড মার্কিং, তথ্য নিরাপত্তা ও বাইরের সংস্থাকে নিয়োগ নিয়ে ভূরিভূরি অভিযোগ উঠেছে। সমালোচনা ঢেউ ঠেকাতে একাধিক কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। একটির নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং ইসরোর প্রাক্তন প্রধান কে রাধাকৃষ্ণণ। তাতে কোনো লাভ হয়নি। এনটিএর ব্যর্থতায় সমস্যা পড়তে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের।
এখানেই শেষ নয়, বিগত তিন বছরে দু’বার নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ২০২৪’এর পর ২০২৬ সালে। ২০২৪ সালে প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি, গ্রেস নম্বরেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তে নেমেছিল সিবিআই। পদত্যাগ করতে হয় এনটিএর প্রধানকেও। ওই বছরই পরীক্ষায় একদিন আগে বাতিল হয় ইউজিসি-নেটও। এবছরও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। ৩ মে নিট-ইউজির পরীক্ষা হয়। প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলায় ১২ মে তা বাতিল করা হয়। ২১ জুন কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ফের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই পর্বেই তৈরি হয় ককরোচ জনতা পার্টির। তাদের আন্দোলনেই নতি স্বীকার করতে হল মোদি সরকারকে। চেয়ার ছাড়তে বাধ্য হলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবছর শুধু নিট নয়, সিবিএসইর অন স্ক্রিন মার্কিং নিয়েও সমস্যা দেখা গিয়েছিল। এছাড়া, মোদি সরকারের পিএম স্কুলস ফর রাইজিং ইন্ডিয়া প্রকল্প নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে প্রধানকে। তামিলনাড়ু, কেরল, পাঞ্জাব, তৃণমূল সরকারের সময় পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক অবিজেপি রাজ্য বারবার কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিল। সংঘাত তৈরি হয়েছিল তিনভাষা নীতি নিয়েও। দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুর সহ একাধিক রাজ্যের অভিযোগ, জাতীয় শিক্ষা নীতির নামে হিন্দি চাপানোর চেষ্টা করছে মোদি সরকার। এই নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন।