


মুম্বই: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জের। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় দেশে গ্যাস ও জ্বালানি আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটেছে। দেখা গিয়েছে রান্নার গ্যাসের সংকট। ধুঁকছে হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসা। এবার এই সংকটের প্রভাব পড়তে চলেছে ডেয়ারি শিল্পেও। সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, দুধের পাস্তুরাইজেশনের জন্য রান্নার গ্যাসের অবিরাম সরবরাহ প্রয়োজন। এখন গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় এই কাজে বাধা তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়,
দুধের প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত পলিথিন ব্যাগ ও পাউচের উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একাধিক ডেয়ারি সংস্থা সূত্রে এই খবর মিলেছে।
গোবর্ধন ডেয়ারির চেয়ারম্যান দেবেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, ‘গ্যাসের সংকটে দুধের পাউচ সহ একাধিক প্যাকেজিং সামগ্রী তৈরি করতে পারছে না সংস্থাগুলি। আমাদের কাছে আর মাত্র ১০ দিনের সামগ্রী মজুত রয়েছে।’ একই সুর মহারাষ্ট্রের চেম্বুরের সুরেশ ডেয়ারির আধিকারিক শারিব শেখের গলাতেও। তাঁদের সংস্থার হাতেও ১০ দিনের প্যাকেজিং সামগ্রী মজুত রয়েছে।
এছাড়াও চাহিদাতেও ভাটার টান। কারণ, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় দুধ কেনা কমিয়ে দিয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিও। বম্বে মিল্ক প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সিকে সিং বলেছেন, ‘বড় অর্ডার বাতিল হওয়ায় খোলা বাজারে অর্ধেক দামে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। ছোটো ডেয়ারিগুলির দুধ সংরক্ষণ করে রাখার মতো যথেষ্ট পরিকাঠামোও নেই।’ ভিলে পার্লের শ্রীনারায়ণ ডেয়ারির মালিক ঋষি যোশী বলেছেন, ‘আমরা বাসুন্দি, শ্রীখণ্ডের মতো দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করি। সামনেই উৎসবের মরশুম। কিন্তু আমাদের উৎপাদন থমকে রয়েছে। পনির তৈরির জন্য বিদ্যুৎ চালিত বয়লার কিনেছি। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।’
যদিও প্যাকেজিং সামগ্রীর কোনও সংকট নেই বলে জানিয়েছে আমূল। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় মেহতা বলেছেন, ‘ আমরা ৮০ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ পাচ্ছি। বাকি ২০ শতাংশ ডিজেলের মতো অন্য বিকল্প জ্বালানি দিয়ে মেটানো হচ্ছে। আমরা নিজেরাই প্যাকেজিং সামগ্রী তৈরি করি। সেখানেও কোনো সমস্যা নেই।’ একই কথা জানিয়েছে মাদার ডেয়ারিও।