


জম্মু: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তদন্তে এবার আতস কাচের তলায় একটি ক্যামেরা। গত বছর ২২ এপ্রিল হামলার ওই ঘটনায় গোপ্রো হিরো-১২ মডেলের ক্যামেরাটিও জঙ্গিদের ব্যবহারের তালিকায় ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। এই ডিভাইসটি কাকে বিক্রি করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত কোথায় কীভাবে তার ব্যবহার হয়েছিল, সেসম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্যের জন্য চীনের কাছে সাহায্য চেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ক্যামেরাটি সম্পর্কে তথ্য জানার লক্ষ্যেই জম্মুর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতেই লেটার রোগেটরি (এলআর) ইস্যু করেছে বিশেষ এনআইএ আদালত। অর্থাৎ বিদেশ থেকে তথ্য পাওয়ার আবেদনের জন্য আদালতের অনুমতি পেয়ে গিয়েছে এনআইএ।
ক্যামেরাটি সম্পর্কে চীনের কাছ থেকে তথ্য জানতে বিএনএসএস-এর ১১২ ধারায় আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন এনআইএ-র ডিআইজি সন্দীপ চৌধুরী। চীনের বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় এলআর ইস্যু করেন এনআইএ আদালতের বিশেষ বিচারক। আদালতে এনআইএ জানিয়েছে, পহেলগাঁও হামলায় ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করতে তদন্তে নেমে বিভিন্ন সামগ্রী ও বৈদ্যুতিন সামগ্রী আটক করা হয়েছিল। সেই তালিকাতেই ছিল এই গোপ্রো হিরো-১২ ব্ল্যাক ক্যামেরাটি। সেই ক্যামেরার সিরিয়াল নম্বর সি৩ ৫০১৩২৫৪৭১৭০৬।
প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে এর আগে নেদারল্যান্ডসের উৎপাদক সংস্থা গোপ্রো বি ভি-এর দ্বারস্থ হয়েছিল এনআইএ। জবাবে ওই সংস্থা জানিয়েছিল, তারা ক্যামেরাটি চীনের ডিস্ট্রিবিউটার এ ই গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে সরবরাহ করেছিল। সেটি অ্যাক্টিভেট হয়েছিল চীনের ডংগুয়ানে, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি। এর পরবর্তী তথ্যের জন্য চীনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ফলে ক্যামরাটি চীনে কে কিনল, সেখান কোথায় গেল, সাপ্লাই চেনের যাবতীয় তথ্য পেতে এবার আদলেতের অনুমতির মাধ্যমে বেজিংয়ের কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হচ্ছে এনআইএ।
এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দিল সেনাবাহিনী। সরকারি সূত্রে খবর, বুধবার ভোর ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ রাজৌরি জেলার তুরকান্দি ফরওয়ার্ড এরিয়ায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলে। বিষয়টি নজরে আসতেই গুলি চালায় সেনা। তবে সেনার গুলিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো কোনও জঙ্গি হতাহত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।