


বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: ‘হোয়াইট কলার টেরর’। আপাতদৃষ্টিতে সমাজের সম্মানীয় পদে রয়েছে তারা। কিন্তু আম জনতার ভিড়ে মিশে থেকে গোপনে চালাচ্ছে নাশকতামূলক কাজ। ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধারের পর মাথাচাড়া দিয়েছে এই তত্ত্বটি। এরই মাঝে হরিয়ানা থেকে এক মৌলবিকে আটক করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। ধৃতের নাম ইস্তিয়াক। জানা গিয়েছে, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল ইস্তিয়াক। আর সেখানেই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রেখেছিল সে। বুধবার সকালে তাকে শ্রীনগরে আনা হয়।
ইস্তিয়াকের বাড়ি হরিয়ানার মেওয়াতে। তার নেতৃত্বেই আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তার ভাড়া বাড়ি থেকেই আড়াই হাজার কেজিরও বেশি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম ক্লোরেট ও সালফার উদ্ধার করা হয়েছে। মৌলবির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত করেছিল চিকিৎসক মুজাম্মিল ও উমর। ইস্তিয়াককে জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এদিন উপত্যকাজুড়ে তিনশোর বেশি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর মেলে, জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় ফের সক্রিয় হচ্ছে জামাত-ই-ইসলামি। তারপরই কুলগাঁও, পুলওয়ামা, সোপিয়ান, বারামুল্লা সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চলে। সন্দেহভাজনদের বাড়ি ও তাদের কাজের জায়গায় পৌঁছন আধিকারিকরা। শুধুমাত্র দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ে প্রায় ২০০টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চলে। অতীতে যে সমস্ত জায়গায় এনকাউন্টার হয়েছে, জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর মিলেছে, সেই সমস্ত এলাকা ঘিরে ফেলে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চলেছে। প্রায় ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযান চলাকালীন বেশ কিছু নথি ও ডিজিটাল ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।