


জেনেভা, ১০ আগস্ট: ১৯৮১ সাল তারপর কেটে গিয়েছে ৪৫টা বছর। ফিরে এল ইন্দিরা জমানার ইতিহাস। ফের জেনেভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের ইউরোপীয় সদর দপ্তরে পাঁচটি ময়ূর উপহার দিল ভারত। এই নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে দু'বার এই উপহার পেল রাষ্ট্রপুঞ্জ। উপহার দেওয়া ময়ূরগুলির মধ্যে রয়েছে চারটি নীল ময়ূর এবং একটি বিরল সাদা পালকের ময়ূর। শুক্রবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দপ্তরে মহাপরিচালক তাতিয়ানা ভালোভায়ার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ময়ূরগুলি তুলে দেন জেনেভায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি অরিন্দম বাগচী।
জেনেভায় রাষ্ট্রপুঞ্জের দপ্তরে ভারতের পক্ষ থেকে ময়ূর উপহারের ঘটনা এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। এর আগে ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লি চিড়িয়াখানা থেকে দুটি ময়ূর রাষ্ট্রপুঞ্জকে উপহার দিয়েছিলেন। ভারতের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন তাতিয়ানা ভালোভায়া। ভারত সরকারের এই সৌজন্য উপহারের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশন। বায়োপার্কের পরিচালক টোবিয়াস ব্লাহা বলেন, ময়ূরগুলির দেখভালের দায়িত্ব থাকবে জেনেভা বায়োপার্ক চিড়িয়াখানা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের কর্মীদের উপর। তবে এখনই ময়ূরগুলিকে পার্কে অবাধে ঘুরতে দেওয়া হবে না। প্রথমে প্রায় তিন মাস তাদের একটি সুরক্ষিত ও ঘেরা আবাসস্থলে রাখা হবে। পরে ধীরে ধীরে তাদের আরিয়ানা পার্কে মুক্তভাবে বিচরণ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
আরিয়ানা পার্কে ময়ূর রাখার ঐতিহ্য এক শতাব্দীরও বেশি পুরনো। ১৮৯০ সালে সুইস প্রত্নতত্ত্ববিদ গুস্তাভ রেভিলিও তাঁর সম্পত্তি জেনেভা শহরকে দান করেন। সেই সম্পত্তিরই অংশে পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের ইউরোপীয় সদর দপ্তের গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে পার্কের সঙ্গে ময়ূরের উপস্থিতি জড়িয়ে রয়েছে। তবে সম্প্রতি সেখানে ময়ূরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পার্কে দেখা যাওয়া অধিকাংশ ময়ূর ১৯৯৭ সালে জাপানের একটি চিড়িয়াখানা থেকে উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। ভারতের নতুন উপহার সেই পুরনো ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করল।