


লখনউ, ১০ জুন: হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুন! সেই কাণ্ডে গ্রেপ্তার হলেও পুলিসকে বিভ্রান্ত করছেন সোনম। গত ১১ মে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে বিয়ে হয়েছিল সোনম ও রাজা রঘুবংশীর। হানিমুনে তারা মেঘালয় ঘুরতে গিয়েছিলেন। ২০ মে কামাখ্যা হয়ে শিলং পৌঁছন নবদম্পতি। গত ২৩ মে সোহরা বা চেরাপুঞ্জি বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিলেন দু’জনে। ১১ দিন পর একটি খাদ থেকে উদ্ধার হয় পরিবহণ ব্যবসায়ী রাজার ক্ষতবিক্ষত দেহ। উদ্ধার হয় একটি চপারও। তবে নববধূর কোনও খোঁজ মেলেনি। সিট গঠন থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা, স্নিফার ডগ, ড্রোন—সোনমকে খুঁজতে কিছুই বাদ রাখেনি মেঘালয় পুলিস।
অবশেষে গতকাল, উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের ৩১ নং জাতীয় সড়কের ধারে একটি ধাবাতে খোঁজ পাওয়া যায় সোনমের। সেখানেই একজনের ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করেন সোনম। তারপরেই পুলিসে খবর যায়। সোনমকে প্রথমে আটক পরে গ্রেপ্তার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিস। আর পুলিসি জেরায় নানান বিভ্রান্তিকর বয়ান দেন সোনম। প্রথমে তিনি বলেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহরণকারীর তাঁকে গাজিপুরে ফেলে রেখে পালিয়েছে। পরেই তিনি বয়ান বদলে বলেন, আমাকে মাদক খাওয়ানো হয়েছিল। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাজিপুরে নিয়ে আসা হয়। আমি নিজেই আক্রান্ত। যদিও পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে ও তদন্তে জটিলতা বাড়াতেই এই ধরণের আচরণ করছেন সোনম, দাবি উত্তরপ্রদেশের পুলিসের এডিজি(আইন শৃঙ্খলা) অমিতাভ যশের। তিনি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘সোনম নিজেকেই অপরাধের শিকার হিসেবে দেখাতে চাইছে। তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন মাদক খাইয়ে অপহরণকারীরা গাজিপুরে নিয়ে এসেছিল। একজনের ফোন থেকে নিজের বাড়িতে ফোন করে এইসবই বলেন সোনম। তার পরিবারের সদস্যরা মধ্যপ্রদেশ পুলিসকে জানায়। সেখান থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
গাজিপুরের ওই ধাবা থেকে আটক করে স্থানীয় থানা। এখন মেঘালয় পুলিস তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।’ তবে সোনম তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলে জানিয়েছে পুলিস। ইতিমধ্যেই তাকে ট্রান্সজিট রিমান্ডে নিয়ে মেঘালয় যাচ্ছে পুলিস। আজ, মঙ্গলবার সকালে বিহারে পৌঁছে সেখান থেকে রওনা দিয়েছেন তদন্তকারীর। এই হানিমুন হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন সোনমের ‘প্রেমিক’ রাজ সিং কুশওয়া (২২) ও আরও তিনজন। সোনমদের পারিবারিক ব্যবসায় কর্মরত রয়েছেন রাজ। তার বাড়ি ইন্দোরেই। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাজ, সোনমের বাবা দেবী সিংয়ের সঙ্গে রয়েছেন। জামাইয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন দেবী সিং। তাকে আশ্বস্ত করছিলেন রাজ। এমনকী রাজার শেষকৃত্যেও ছিলেন রাজ। এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফত। পুলিস সূত্রে খবর, রাজার সঙ্গে বিয়ের তিনদিনের মাথায় তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন সোনম। এই বিষয়ে পরামর্শ করেছিলেন ‘প্রেমিক’ রাজের সঙ্গে।