


নয়াদিল্লি: শিশুপাচার মামলায় কড়া অবস্থান সুপ্রিম কোর্টের। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ— কোনও হাসপাতাল থেকে সদ্যোজত নিখোঁজ বা চুরি হলে, ওই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।
সন্তানহীন দম্পতির কাছে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক সদ্যোজাতকে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছিল উত্তরপ্রদেশে। শিশুপাচারের এই মামলায় অভিযুক্তদের জামিন দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলায় মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ সরকার ও এলাহাবাদ হাইকোর্টের সমালোচনা করে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, জামিনের আবেদনগুলি ‘গুরুত্ব’ না দিয়ে শোনা হয়েছিল। এর জন্য অনেক অভিযুক্ত এখন নিখোঁজ। হাইকোর্টের উচিত ছিল, অন্তত প্রতি সপ্তাহে অভিযুক্তদের থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। অভিযুক্তদের সমাজের জন্য ‘অত্যন্ত ক্ষতিকারক’ বলেও মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। উত্তরপ্রদেশ সরকারের সমালোচনা করে বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, ‘যেভাবে সরকার বিষয়টি পরিচালনা করেছে, তা হতাশাজনক। মামলাটিতে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত চেয়েছিলেন বলেই তাঁকে টাকার বিনিময়ে অন্যের শিশু দেওয়া যায় না। তিনি জানতেন শিশুটিকে চুরি করা হয়েছিল।’ আদালতের নির্দেশ, আত্মসমর্পণ করতে হবে সব অভিযুক্তকে। তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে। তারপরই ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, হাসপাতাল থেকে শিশুচুরি হলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হোক।
শীর্ষ আদালতের সুপারিশগুলি দ্রুত কার্যকর করতে হবে রাজ্য সরকারগুলিকে।নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনও ঢিলেমি দেখা দিলে, তা আদালত অবমাননা বলে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি দেশের উচ্চ আদালতগুলিতে কতগুলি শিশুপাচার মামলা রয়েছে এবং সেগুলি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।