


নতুন চ্যালেঞ্জ তিনি নিতে পছন্দ করেন। ‘দেশু ৭’ ছবির পাশাপাশিই চলছে তাঁর ‘দাদাগিরি’র সঞ্চালনা। কতটা কঠিন এই জার্নি? শেয়ার করলেন দেব।
‘দাদাগিরি’র নতুন ইমেজ কতটা এনজয় করছেন?
আমি চেষ্টা করছি। এই শো-এর যে মান সম্মান তা যেন আরও বাড়ে, সেটা আমার লক্ষ্য। অভিজিৎ (সেন, পরিচালক) এবং ওর টিম প্রচুর পরিশ্রম করছে। কোনটা ভালো লাগছে, কোনটা আরও ভালো করতে হবে সে সব নিয়ে মন্তব্য করেন তাঁরা।
‘দাদাগিরি’ করতে রাজি হলেন কেন?
অভিজিতের সঙ্গে আমার অনেক বছরের সম্পর্ক। কিন্তু ‘দাদাগিরি’-র জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। অন্য একটা শো নিয়ে গত বছর থেকে আলোচনা চলছিল। ভেবেছিলাম, সেটাই হবে। হঠাৎ করে এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ফোন করে দেখা করতে আসে। যখন এসে বলল, আমি বললাম ভুল লোকের কাছে এসেছ হয়তো (হাসি)। এই শহরে আরও হিরো রয়েছে। তাদের এই শো-করার যোগ্যতা অনেক বেশি। ‘দাদাগিরি’ বাংলার সেরার সেরা শো। আমি জানতাম, ‘হ্যাঁ’ বলা মানে যুদ্ধে নেমে পড়া। এটা ভালোবাসার যুদ্ধ। কারণ কোটি কোটি দর্শক রয়েছেন, যাঁরা ‘দাদাগিরি’ ভালোবাসেন। মানুষকে খুশি করা সহজ ছিল না। দর্শক পছন্দ করেছেন। আমরা আপ্লুত।
আপনার বাংলা উচ্চারণের সমস্যা ঢাকতে কি এআই-এর ব্যবহার?
এআই তো ভবিষ্যৎ। এটা টিমের আইডিয়া। দারুণ আইডিয়া...। আসলে আমি সেই মানুষদের প্রতীক যারা নিজেরা ১০০ শতাংশ নয়। অনেকেই ভালো বাংলায় কথা বলতে পারে না। তাও বড়ো হওয়ার স্বপ্ন আছে। এদের সংখ্যা তো অনেক বেশি...।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আপনার তুলনা করছেন অনেকে। কী বলবেন?
এটা স্বাভাবিক। এটা প্রতিযোগিতারই অংশ। এতে আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। দাদার সঙ্গে এটা নিয়ে বহুক্ষণ কথা হয়েছে।
‘দেশু ৭’-এর জন্য টেনশন হচ্ছে?
তা তো হবেই। মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। প্রথমবার পরিচালনা করলাম। ছবিটা মান অভিমান থেকে শুরু হয়েছিল। আমার আর শুভর (শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়) কথা বলছি না কিন্তু (হাসি)। আমাকে বলা হয়েছিল, ছবিটা পুজোতে রিলিজ করতে দেওয়া হবে না। প্রথম ঘোষণার সময় আমার কাছে চিত্রনাট্য ছিল না। শুভ রাজি হল। এত মানুষ বিশ্বাস করে টিকিট কেটে ফেললেন। সাত হাজারের উপর টিকিট ২৪ ঘণ্টায় বিক্রি হয়েছে। সেদিন থেকে আমি ভালো করে ঘুমোতে পারিনি।
নতুন সরকার আসার পর টলিউডের পরিস্থিতি কী?
আমি সত্যি সময় পাইনি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আমি ‘দেশু ৭’ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমার ধারণা ভালো কিছুই হবে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর দর্শক আপনাকে একই ভাবে ভালোবাসবেন তো?
আমি কখনো সিনেমা, রাজনীতিকে একসঙ্গে মেশাইনি। তৃণমূলের সময় অনির্বাণকে (ভট্টাচার্য) ব্যান করা হয়েছিল। আমি একমাত্র সেই লোক, যে অনির্বাণকে পরের ছবিতে কাস্ট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মিঠুনদা (চক্রবর্তী), রূপাদির (গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গেও আমি কাজ করেছি। আমি রাজনীতিতে সৌজন্যের বাইরে যাইনি। আর দর্শকের ভালোবাসা কম না বেশি— তার সবথেকে বড়ো প্রমাণ ‘দাদাগিরি’ (হাসি)।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য