


ভোপাল, ১৩ সেপ্টম্বর: এবার সরাসরি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকের। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সরকারকে কটাক্ষ করতে অভিনব পথ বেছে নিলেন তিনি। 'আমি অভিজিৎ দীপকে, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলাম' এমনই লেখা সহ একটি ইস্তফা পত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি শেয়ার করেন তার পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। সেটি আদতে একটি ব্যঙ্গাত্মক চিঠি, দেখতে অনেকটাই সরকারি পদত্যাগপত্রের মতো। সেই চিঠির মাধ্যমে রাজ্য সরকারের একাধিক ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি কটাক্ষ করেন দীপকে।
এক্স হ্যান্ডলে ভুয়ো পদত্যাগপত্রটি পোস্ট করে দীপকে লেখেন, 'আমি অবিলম্বে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।' পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যঙ্গের সুরে তিনি দাবি করেন, মানুষের সেবা করার যে সুযোগ পেয়েছিলেন, তাতে তিনি 'স্পষ্টতই ব্যর্থ' হয়েছেন। ব্যঙ্গাত্মক ওই চিঠিতে সাগর জেলায় বিষাক্ত বা ভেজাল মদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা এবং বালাঘাটে সংক্রমণে আদিবাসী শিশুদের মৃত্যুর মতো বিষয় তুলে ধরে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন অভিজিৎ। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মীদেরও বিভিন্ন ইস্যুতে কটাক্ষ করেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটের আদোরি, কোরকা ও বন্ডারি গ্রামে গিয়ে সংক্রমণে মৃত আদিবাসী শিশুদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন দীপকে। স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিস্থিতি সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন তিনি। সেই সময়ই তাঁকে কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক মহিলা ইনফ্লুয়েন্সার গাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দীপকের মুখের সামনে মাইক্রোফোন ধরে প্রশ্ন করছেন, তিনি কি 'মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করতে' সেখানে এসেছেন এবং এত দেরিতে কেন এলাকায় এসেছেন। দীপকে তাঁকে দেরিতে আসার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বলেও ভিডিওতে শোনা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দীপকের সঙ্গে থাকা বাকি সিজেপি কর্মীরা অন্য একটি গাড়িতে তুলে সেখান থেকে রওনা দেন।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জাবাব দেন অভিজিৎ। দীপকের দাবি, সংক্রমণের জেরে শিশু মৃত্যুর ঘটনার দায় কোনওভাবেই সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনও সংকটের সময় দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা উচিত নয়। এই ব্যঙ্গাত্মক ইস্তফাপত্রের মাধ্যমে আসলে মোহন যাদবকেই নিশানা করেছেন দীপকে এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। পরোক্ষ ভাবে এই পোস্টের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে মোহন যাদবের ইস্তফার দাবিও তোলা হয়েছে বলে মত অনেকের।