


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইমপিচমেন্ট নোটিসে সই করতে আগ্রহী সাংসদদের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১৯৩ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের চিঠিতে। ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের নামে তিনি আদতে ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছেন বলেই দাবি তৃণমূলের। তাই তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করা, পক্ষপাতদুষ্ট এবং বৈষম্যমূলক আচরণের মতো কয়েক দফা অভিযোগ সামনে রেখে তৈরি হয়েছে ইমপিচমেন্ট নোটিসের চিঠি। আর সেটিতে প্রয়োজনের চেয়ে ঢের বেশি সই পড়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত লোকসভার ১৩০ এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শেষ। আজ, শুক্রবার ওই নোটিস জমা দেওয়া হবে। তার আগে স্বাক্ষরকারী সাংসদের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।
বিজেপি বিরোধী সব দলের সাংসদরাই জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে চাইছেন। তাই তৃণমূলের উদ্যোগে এই ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়ায় ১০ পাতার মূল চিঠি না দেখেই অনেকে সই করছেন। যেমন, কেরলের আরএসপি সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রন কিংবা ফৈজাবাদের (যার মধ্যে পড়ে অযোধ্যা) সমাজবাদী পার্টি সাংসদ অবধেশ প্রসাদ। প্রতিবেদকে তাঁরা নিজে বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোাপাধ্যায় যখন উদ্যোগ নিয়েছেন, তখন চিঠি আর দেখার কী আছে! সই করে দিয়েছি।’ লোকসভায় উপদলনেত্রী শতাব্দী রায়কেই সই সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যসভায় সেই ভূমিকা নিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নাদিমুল হক।
সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের কোনো বিচারপতিকে অপসারণের যে প্রক্রিয়া, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয় না। তবে এর আগে যেহেতু কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এধরনের উদ্যোগ সই সংগ্রহ পর্যন্ত গড়ায়নি, তাই অত্যন্ত সাবধানে, আইনি দিক খতিয়ে দেখেই পা ফেলছে তৃণমূল। এমনিতে সংসদের যে-কোনো সভায় নোটিস জমা করা যায়। আবার দুটি কক্ষেও জমা করতে বাধা নেই। নোটিস দিতে লোকসভায় দরকার হয় কমপক্ষে ১০০ জন সাংসদের সই। রাজ্যসভায় ৫০। সেই সংখ্যা ইতিমধ্যেই পেরিয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। নোটিস গৃহীত হলে অবশ্য তিন সদস্যের কমিটি গড়া, তার রিপোর্ট পেশ, তারপর সংসদে আলোচনা, সভায় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জয়ের মতো বিষয়গুলি যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ। ভোটে বিরোধীদের জয়ের সম্ভাবনাও নেই। তবু পাঁচ রাজ্যে ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে উদ্যোগী সাংসদরা, এই বার্তাই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের মত।
এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে দায়ের হওয়া এক মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির দায়ের করা ওই মামলা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। বলেন, ‘রোজ রোজ বাংলার এসআইআর মামলা কেন? আলাদা করে শোনা হবে না। মূল মামলার সঙ্গেই শুনব।’ আগামী ২৫ মার্চ হবে সেই শুনানি।