


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টে বিরোধীরা একজোট। ক্রমশ জোরদার হচ্ছে তৃণমূলের উদ্যোগ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জমা পড়বে জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করার আবেদন জানিয়ে চিঠি। একইভাবে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণাণের কাছে। দুই সভার বিরোধী সদস্যদের সই সংগ্রহর কাজ জোর গতিতে চলছে। তৃণমূলই সই সংগ্রহ করছে। দলের পক্ষে লোকসভায় শতাব্দী রায় এবং রাজ্যসভায় নাদিমুল হক উদ্যোগ নিয়ে বুধবার প্রয়োজনের অতিরিক্তই সই সংগ্রহে সমর্থ হয়েছেন।
লোকসভার চিঠির জন্য দরকার ন্যূনতম ১০০ এবং রাজ্যসভার জন্য ন্যূনতম ৫০ সাংসদের স্বাক্ষর। সেটি ইতিমধ্যেই লোকসভায় ১৩০ এবং রাজ্যসভায় ৬০ হয়ে গিয়েছে। দলের কাজে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায়। দিল্লি আসছেন না। তবে যেহেতু জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টে তৃণমূলই মূল উদ্যোগী, তাই কলকাতায় ইমপিচমেন্ট আবেদনের চিঠির কপি পাঠিয়ে অভিষেকের সই সংগ্রহ করে নিয়ে আসা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার সংসদের দুই কক্ষেই তা জমা দেওয়া হবে।
তবে ইমপিচমেন্টের এই চিঠিতে লোকসভা-রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা যথাক্রমে রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গে স্বাক্ষর করবেন না। তৃণমূলের এক নেতা জানান, এ ধরনের চিঠিতে সাধারণত বিরোধী দলনেতারা সই করেন না। তবে কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল, গৌরব গগৈ থেকে শুরু করে পি চিদম্বরম, অভিষেক মনু সিংভিরা সই করেছেন। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে তৈরি বিরোধীরা। তবে বিজেডি, ওয়াইএসআরসিপি, শিরোমণি অকালি দলের কাছে সমর্থন চেয়ে সই চাওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছে তৃণমূল।
অন্যদিকে, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বুধবার সরকারের সমালোচনা করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সংসদ চত্বরে বললেন, আর কতদিন মানুষ সহ্য করবে? সরকারের নীতির ব্যর্থতাতেই দাম বাড়ছে। সামাল দিতে পারছে না। তিনি বলেন, সংসদে আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় সরব হয়েছি। যেভাবে জ্বালানি সমস্যা বাড়তে চলেছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়ে বলতে চাই। কিন্তু সরকার সংসদে আলোচনাই করতে চায় না। গত দশ বছরে সব কিছুর দাম বেড়েই চলেছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেকারত্ব। সরকারের নীতির কারণেই সাধারণ মানুষকে বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। আমবা বিরোধীরা তাই সংসদে আলোচনা চাই।