


নয়াদিল্লি: ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা গিয়েছে। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। এই অবস্থায় প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়াল ভারত। মঙ্গলবার বাংলাদেশে ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠিয়েছে দিল্লি। এদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ভারতের আসামের নুমালিগড় তৈল শোধনাগার থেকে মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে। ভারতের কাছ থেকে ডিজেল পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান। এদিন তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ডিজেল সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তি অনুসারে, ভারত প্রতি বছর আমাদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল দেবে। প্রথম ধাপে ৫ হাজার টন ডিজেল আসছে।’
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানির জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে বাংলাদেশ। যাতায়াত এবং পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে গণ পরিবহণের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ঢাকা। এমনিতে সেখানে দৈনিক ডিজেলের স্বাভাবিক চাহিদা ১২ থেকে ১৩ হাজার টন। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ডিজেল মজুতের প্রবণতা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতিমধেই বিভিন্ন যানবাহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে এতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা হঠাৎ বেড়ে দিনে ২০ হাজার টনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অবস্থায় সোমবার বাংলাদেশের পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানায়, ‘পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ জানা গিয়েছে, রবিবার জ্বালানি সংকট মেটাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির ফলে পরিবহণ খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।