


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এক মাসের ব্যবধানে দু’বার। ‘অভিজাত’ বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের খাবারে মিলল পোকা। পাটনা-টাটানগর বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের পর এবার এহেন ঘটনা ঘটেছে আমেদাবাদ-মুম্বই বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই অবশ্য তড়িঘড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রেলমন্ত্রক। অভিযুক্ত খাবার সরবরাহকারী সংস্থাকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার সঙ্গে যাবতীয় চুক্তিও বাতিল করেছে রেল। কিন্তু জরিমানা আদায় বা চুক্তি বাতিলের মতো পদক্ষেপ করা হলেও এমন ঘটনা বন্ধ হচ্ছে কোথায়? এই মুহূর্তে এপ্রশ্নই তুলছে সাধারণ মানুষ। এই প্রেক্ষিতে অন্য আশঙ্কাও করছে বিজেপি। তা হল, রাজ্যে রাজ্যে নির্বাচনি আবহে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকলে সাধারণ রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। এই পরিস্থিতিতে তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে তড়িঘড়ি জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। জানা যাচ্ছে, গোটা ঘটনার সবিস্তার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে আইআরসিটিসির (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন) কাছে জবাব চেয়েছেন।
দিনকয়েক আগে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে আমেদাবাদ থেকে মুম্বই ফিরছিলেন আদিত্য দিদওয়ানিয়া। অভিযোগ, দুপুরে তাঁকে যে খাবার সরবরাহ করা হয়, সেই ‘ডাল-চাওলে’র (ডাল-ভাত) মধ্যে আরশোলার মতো দেখতে ছোটো পোকা ছিল। সেই ছবিও তুলে রাখেন তিনি। আদিত্যর অভিযোগ, শুধু তাঁর খাবারেই নয়, একই কোচের আরও এক যাত্রীর খাবারেও ওই পোকা পাওয়া যায়। ভয়ে এবং ঘেন্নায় ওই কোচের সমস্ত যাত্রী দুপুরের খাওয়া বন্ধ করে দেন। ডেকে আনা হয় ‘অন বোর্ড’ আইআরসিটিসি সুপারভাইজরকেও। অভিযোগ পেয়ে অবশ্য নড়েচড়ে বসে রেল। ক্ষুব্ধ রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের প্রশ্ন, বন্দে ভারত ট্রেনে বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও কেন উচ্চগুণমান সম্পন্ন খাবার মিলবে না?
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ পাটনা-টাটানগর বন্দে ভারত এক্সপ্রেসেও খাবারে আরশোলার মতো দেখতে ছোটো ছোটো পোকা পাওয়া যায়। এর জেরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে যেমন ৫০ লক্ষ টাকার জরিমানা ও তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে রেল। তেমনই নিজেরই আওতাভুক্ত সংস্থা আইআরসিটিসিকেও ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল রেল বোর্ড। কিন্তু এর পরেও যে এমন ঘটনা বন্ধ হয়নি, তার প্রমাণ মিলেছে। যদিও সম্প্রতি সংসদে এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব দাবি করেছেন, ট্রেনে খাবারের গুণমান সংক্রান্ত অভিযোগের হার বছরে গড়ে মাত্র ০.০০০৮ শতাংশ!