


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্ষমতায় এসেই সবথেকে বড় দুটি নেশা পেয়ে বসেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকারের। প্রথমত যা কিছু পুরনো, সব বদলে ফেলা। দ্বিতীয়ত, সরকারি সংস্থা অবাধে বিক্রি করা। ১১ বছর পর ঘটনাচক্রে দুটিরই মূল লক্ষ্য ব্যর্থ। যোজনা কমিশনের নাম বদল, পুরনো নোট বাতিল, নতুন দিল্লির রূপান্তর, পুরনো সংসদ ভবনকে অতীত করে দেওয়ার মতো কাজে আদতে প্রশাসনিক উৎকর্ষের ছাপ পাওয়া যায়নি। বদল রয়ে গিয়েছে কাগজ কলমে এবং দৃশ্যগত। বিলগ্নিকরণের ক্ষেত্রেও সাফল্য আসছে না। সরকারি সংস্থা বিক্রি করতে কেন্দ্র মরিয়া হলেও আগ্রহী ক্রেতা নেই। গত বছরের বাজেটে চলতি অর্থবর্ষে ৫১ হাজার কোটি টাকা আয়ের টার্গেট ছিল সরকারি সংস্থার বিলগ্নিকরণ থেকে। আর্থিক বছর প্রায় শেষ। সরকারের আয় হয়েছে মাত্র ৯ হাজার কোটি টাকা। যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। অর্থমন্ত্রকের বিলগ্নিকরণ দপ্তরের এই পারফরম্যান্স দেখে প্রশ্ন উঠছে, মোদি সরকারের আমলে সরকারি সংস্থাগুলির ব্র্যান্ড ভ্যালু অথবা ক্রয়যোগ্য মূল্য কি তলানিতে?
মোদির আমলে বিলগ্নিকরণের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে এবং তার সঙ্গে তালমিলিয়ে বেড়েছে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু বাস্তবে বিলগ্নিকরণ সফলতা পাচ্ছে না। কারণ সরকার বহু চেষ্টা করেও কোনও বছরই বিলগ্নিকরণের লক্ষ্যপূরণ করতে পারছে না। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের সরকারি সংস্থা বিক্রি করে সরকারের আয় মাত্র ৯৩১৯ কোটি টাকা।যা লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে পৌছঁতে পারেনি। এর আগের আর্থিক বছরে এর পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা।
মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছরের মধ্যেই ৩৫টি নামজাদা সরকারি সংস্থার নাম পর্যন্ত স্থির করে ফেলেছিল। যতই বছর এগিয়েছে ততই আরও উচ্চকিত ঘোষণা করা হয়েছে বিলগ্নিকরণের। এমনকী কয়েকবছর আগের ঘোষণা ছিল ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা আয় হবে। হয়েছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। আর ১০ দিন পরই সমাপ্ত হবে চলতি আর্থিক বছর। কী কী বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এই এক বছরে? ২৩৪৫ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে জেনারেল ইনসিওরেন্সের সাড়ে ৩ শতাংশ শেয়ার। ২০১৫ কোটি টাকা আয় করা হয়েছে কোচি শিপইয়ার্ডের ৩.৯৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করে। হিন্দুস্তান জিংকের দেড় শতাংশ বিক্রি করে পাওয়া গিয়েছে ৩৪৪৯ কোটি টাকা। ১৫০৯ কোটি টাকা এসেছে ইউনিট ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া বিক্রিতে। সাকুল্যে এই কয়েকটি সংস্থার শেয়ার বিক্রি করতে সমর্থ হয়েছে সরকার। অথচ তালিকায় ছিল সরকারি ব্যাঙ্ক, সরকারি বৃহৎ উৎপাদন সংস্থা। কিন্তু ক্রেতা পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থায় চাকরি পাওয়া এককালে ছিল সামাজিক সম্মানের শিখর স্পর্শ করা। আজ সেই সরকারি সংস্থা বিক্রি করতে মরিয়া হয়েও সফল হচ্ছে না মোদি সরকার।