


নয়াদিল্লি: ভারতের বড়সড় আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করছিল পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মুহম্মদ। এরজন্য অনলাইনে ৬ হাজার ৪০০ টাকা করে চাঁদাও তুলছিল তারা। দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন আধিকারিকরা। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, অপারেশন সিন্দুরের পর মহিলা শাখা তৈরি করে জয়েশ। নাম জামাত উল-মুমিনাত। মাথায় বসানো হয় জঙ্গি সংগঠনের মাথা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়াকে। দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে ইতিমধ্যেই ডাঃ শাহিন শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কোডনেম ‘ম্যাডাম সার্জেন’। লালকেল্লা হামলায় টাকাপয়সা জোগাড়ের দায়িত্বে ছিল সে। মাসুদের বোনের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল শাহিনের। ঘটনা পরম্পরা ও বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ হাতে পেয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত, মহিলাদের দিয়েই ভারতে বড়সড় আত্মঘাতী হামলার ছক কষছিল ওই জঙ্গি সংগঠন। জানা গিয়েছে, এই অপারেশনের জন্য চাঁদা তুলছিল জয়েশ। একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি পাকিস্তানি অ্যাপ ‘সাদাপে’র সাহায্যও নেওয়া হয়। পাক-মুদ্রায় ২০ হাজার পাকিস্তানি টাকা (ভারতীয় অর্থে ৬ হাজার ৪০০ টাকা) করে ‘ডোনেশন’ চেয়েছিল জঙ্গি সংগঠন। তারা জানায়, হামলার আগে ও পরে জঙ্গিদের জন্য উলের মোজা, ম্যাট্রেস, তাঁবু সহ শীতের নানা সামগ্রী দরকার। চাঁদার অর্থ সেই খাতেই খরচ হবে। জয়েশ নেতারা ঘোষণা করে, যাঁরা ‘মুজাহিদ’দের শীতের সামগ্রী কিনতে আর্থিক সাহায্য করবে, তাদেরও ‘জিহাদি’ হিসেবেই সম্মান জানানো হবে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত, জঙ্গি হামলার খরচ তুলতেই ওই টোপ দিয়েছিল জয়েশ। দিল্লি নাশকতার নেপথ্যে থাকা মেডিকেল মডিউলের ১০ সদস্যের হাতেও এভাবেই টাকা পাঠানো হয়েছিল। মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই অর্থ লেনদেন চলত। এবার তা খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্তও শুরু করেছেন আধিকারিকরা। তাতেই ‘মানি ট্রেল’ সম্পর্কে আরও তথ্য মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।