


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নীতীশ কুমারের দলে বিদ্রোহ বাড়ছে। দলের অন্দরেই শীর্ষ নেতৃত্বের আশঙ্কা, নীতীশকুমার মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে রাজ্যসভার এমপি হওয়ার পর দলের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। শুক্রবার নীতীশ কুমারের দলের এমপি এবং এমএলএদের বৈঠক হয়েছে পাটনায়। সেখানে বড় অংশের জনপ্রতিনিধিই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি করেছেন। দলের মুখপাত্র নীরজকুমার বলেছেন, দলের মধ্যে অবশ্যই একটি অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ নীতীশজির থাকা এবং না থাকার মধ্যে পার্থক্য অনেক। বিহারে সবথেকে স্বচ্ছ এবং জনপ্রিয় নেতা নীতীশ কুমার। আর কোনো নেতা এই দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে মানুষের আশীর্বাদ পেয়ে আসেননি। বিহারে ভোট দেওয়া হয় তাঁকে দেখেই। সেই প্রবণতা অতি সম্প্রতি বিহারের নির্বাচনেও সত্য প্রমাণিত হয়েছে। নীরজকুমার স্বীকার করেছেন যে, জেডিইউতে যতই অন্য নেতারা থাকুন, গ্রাম ও শহরের দলীয় সমর্থকের কাছে একমাত্র নীতীশই হলেন নেতা। সেই কারণেই জেলায় জেলায় অশান্তি চলছে এবং সকলেই ভয় পাচ্ছে নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে দলের গুরুত্ব আর থাকবে না।
এদিকে নীরজকুমার স্বীকার না করলেও জানা যাচ্ছে, দলের অন্দরে ভাঙনের আভাস। বিজেপিতে চলে যাওয়ার একটি প্রবণতা দলের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে। একবার নীতীশ ইস্তফা দেওয়ার পর বিজেপিও খোলাখুলি নামবে তাদের দলের এমপি ও বিধায়কদের কাছে টানতে। ভবিষ্যতে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে আর দল কোনও নির্বাচনে লড়াই করবে না। এখনই নীতীশের বয়স ৭৫ বছর। ২০২৯ সালে লোকসভা ভোট এবং ২০৩০ সালে পরবর্তী বিধানসভা ভোট। কিন্তু নীতীশ কুমার যদি বিজেপির উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেন তাহলে রাজ্য এবং কেন্দ্র, উভয় সরকারই বিপদে পড়বে। এই থিওরি নিয়ে বিজেপি আদৌ চিন্তিত নয়। কারণ বিজেপি সূত্রের খবর, নীতীশ কুমারের কাছে বিজেপিকে রাজ্যে ও কেন্দ্রে সমর্থন করা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। রাজনৈতিক কেরিয়ারের সম্মানজনক বিদায় চাইছেন তিনি। বিজেপির এই প্রস্তাব তাই তিনি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সংযুক্ত জনতা দলের অন্দরেই সংশয় রয়েছে যে, নীতীশ কুমারের পুত্রের পক্ষে দলকে একইভাবে ধরে রাখা এবং ভোটব্যাঙ্ককে ছিনতাই হতে না দেওয়া সম্ভব নয়। বিজেপির কাছে সর্বাগ্রে চলে যাবে মহাদলিত ভোট। আর তাই দলের অন্দরে ঝড় চলছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তেজস্বী যাদব শুক্রবার জানিয়েছে, নীতীশ ফিনিশ!