


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অবসরের পরেই অথবা কর্মরত অবস্থায় যেন কোনও বিচারপতি নির্বাচনে প্রার্থী না হতে পারেন। অবসরের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যেন দেশের কোনও বিচারপতিকে সরকারি পদ না দেওয়া হয়। এমনকী রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনও পদও। যেমন রাজ্যপাল বা লেফটেন্যান্ট গভর্নর বা সাংসদ। কমপক্ষে পাঁচ বছর তাঁদের কোনও পদ দেওয়া চলবে না। ‘পার্সোনেল, পাবলিক গ্রিভ্যান্স এবং আইন ও বিচার’ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মঙ্গলবার এ নিয়ে সরব হলেন বিরোধী দলের সাংসদরা।
আলোচনায় উঠল দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গ। দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরেও কেন তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হল না? কেন দেশের একাধিক হাইকোর্টের বিচারপতি এখনও তাঁদের সম্পত্তির হিসেব প্রকাশ করেননি? বিচারপতির পদে বসে কিছু নিয়ম, আচার ব্যবহার মেনে (কোড অব কনডাক্ট) চলা উচিত বলেই সরব হলেন প্রায় সব দলেরই সাংসদরা। দাবি উঠল, তৈরি হোক বিধি।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদে অবসরের কিছুদিন পরেই রঞ্জন গগৈকে রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য করা হয়েছে। রামমন্দির মামলার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে লোকসভার সদস্য হন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের এক বিচারপতিও অবসরের সময় জানিয়েছিলেন, তিনি আরএসএসে বিশ্বাসী। সরাসরি নাম না করে এদিন আলোচনায় এহেন ঘটনার কথা ওঠে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় বিচারবিভাগের সচিব রাজকুমার গোয়েলকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে সরকারের মনোবাসনা জানতে চান সাংসদরা। যদিও মন্ত্রকের সচিব কোনও জবাব দেননি। পরের বৈঠকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কমিটির সভাপতি বিজেপির ব্রিজলাল। বিধি মেনে বৈঠকে কোনও বিচারপতিরই সরাসরি নাম নেয়নি তৃণমূল। তবে অবসরের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিচারপতিদের পদ দেওয়া প্রসঙ্গে সরব হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, এতে সাধারণ মানুষের মনে বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতির আসনে বসে কেউ যদি পক্ষপাতিত্বের শিকার হন, তাহলে দেশে বিচার ব্যবস্থার প্রতি কারও আস্থা থাকবে না। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন বিজেপি বিরোধী সাংসদরা। আগামী শুক্রবার সংসদীয় কমিটি যাচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর।