


পরামর্শে এইচ পি ঘোষ হাসপাতালের বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ শেলী গর্গ।
চুল পড়া এখন খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু, এর থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সন্দিহান আম জনতা। কেউ পেঁয়াজের রস মাখছেন, কেউ আবার বিজ্ঞাপনী প্রচারে ভেসে মহার্ঘ শ্যাম্পু, তেল ব্যবহার করছেন। হন্যে হয়ে খুঁজছেন নতুন নতুন কৌশল! তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই বিভ্রান্ত না হয়ে আমরা বরং সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।
চুল কেন পড়ে?
প্রথম কারণ পুষ্টির অভাব। আমরা আজকাল সবুজ শাক-সব্জি বদলে ফাস্টফুড খাচ্ছি বেশি। এর ফলে পুষ্টির অভাব হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, হরমোন ঘটিত সমস্যার কারণেও অনেক সময় চুল পড়ে যায়। অনেকের আবার বংশগতভাবে টাক পড়ার সমস্যা থাকে। এছাড়া, বর্তমানে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে মানসিক চাপ-উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এটিও কিন্তু অন্যতম কারণ। সেই সঙ্গে কারও যদি হাইপো বা হাইপার থাইরয়েডিজম থাকে, তাঁকেও এই সমস্যায় ভুগতে হয়। আবার মাথার ত্বকে সংক্রমণের কারণেও অনেকসময় চুল পড়ে যায়। এখন তো বায়ুদূষণও এই সমস্যায় বড় ভূমিকা পালন করছে।
ঘরোয়া চিকিৎসা কার্যকরী?
চুল পড়া ঠেকাতে হলে আমাদের পুষ্টিকর খাবার খেতেই হবে। ডায়েটে চিয়া সিড, পামকিন সিড, সানফ্লাওয়ার সিড রাখা খুবই উপকারী। আমন্ড, আখরোটও তাতে যোগ করা যেতে পারে। এরসঙ্গে সঙ্গে ডায়েটে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারও রাখা দরকার। চুলে স্বাস্থ্যের জন্য এগুলি খুবই কার্যকরী। আমিষভোজীরা চিকেন, মাটন, মাছ খেতে পারেন। যাঁরা নিরামিশাষীরা খাদ্যতালিকায় অবশ্যই পনির, চিজ, দই, সয়াবিন, সবুজ শাকসব্জি, ফল অবশ্যই রাখুন।
অন্যান্য চিকিৎসা?
উপরের খাদ্যতালিকার পাশাপাশি অনেকের ওষুধ খাওয়ারও দরকার পড়ে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই কিছু রক্তপরীক্ষা করতে দিই। এরমধ্যে হিমোগ্লোবিন, ভিটামিন ডি ৩, ভিটামিন বি ১২, থাইরয়েড প্রোফাইলের মতো টেস্ট রয়েছে। এই পরীক্ষাগুলির মাধ্যমে চুল পড়ার প্রকৃত কারণ বুঝে নেওয়া হয়। যদি দেখা যায়, পুষ্টির অভাবের জন্য সমস্যা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হয়। আবার থাইরয়েডের কারণে চুল পড়লে তখন তার ভিত্তিতে ওষুধ খেতে বলি।
শ্যাম্পু ও তেল কতটা কার্যকরী?
কারও যদি খুশকির সমস্যা থাকে, তাঁর ক্ষেত্রে শ্যাম্পু খুবই কার্যকরী। অনেকসময় মাথার ত্বকে সংক্রমণ দেখা দেয়। যার ফলে অনেক সময় চুল পড়ে যায়। এখানে একটা প্রশ্ন ওঠে, কার কোন ধরনের শ্যাম্পু দরকার? উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, খুশকির সমস্যা থাকলে কিটোকোনাজোল শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া, চুল পড়া ঠেকাতে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, কোল টারের মতো উপাদান থাকাও প্রয়োজন।
তেলও খুব ভালো। শুষ্ক চুলকে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে, যা চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে আমরা সাধারণত নারকেল তেল (ভার্জিন কোকোনাট অয়েল) ব্যবহার করার পরামর্শ দিই। তবে এক্ষেত্রে এই তেল লাগানোর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তা হল, স্নান করার একঘণ্টা আগে নারকেল তেল মাথায় মাখতে হবে। স্নানের সময় তা ধুয়ে ফেলতে হবে। কোনওভাবেই সারা রাত নারকেল তেল মেখে রাখা যাবে না।
শেষ কথা...
চুল পড়া শুরু হলেই দেখতে হবে মাথার ত্বকে কোনও সংক্রমণ হয়েছে কি না। দরকারে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। তাঁর পরামর্শমতো চিকিৎসা করান। সেইসঙ্গে আমাদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অভ্যেস করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করা দরকার। কারণ, শরীরচর্চা করলে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। যা চুলের সু-স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকরী। তবে জিনগত কারণে চুল ঝরার সমস্যায় অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যেতে হবে।
লিখেছেন সুদীপ্ত সেন।