


পরামর্শে ডায়েটেশিয়ান সঞ্চিতা শীল
নিত্য পাতে একটি ফল। শরীররে বাগে রাখতে একাই একশো। ইংরেজি প্রবাদও বলছে, ‘অ্যান অ্যাপল আ ডে, কিপস দ্য ডক্তর অ্যাওয়ে!’ অর্থাৎ রোজ একটি করে আপেল খেলে ডাক্তারবদ্যি দূরে থাকবেন, অসুখবিসুখ হবে না। ফলের ভূমিকা আমাদের দিনযাপনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফল খেলে ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু ফল খাওয়ার ধরন এক একজনের এক একরকম। কেউ কিছু ফল খোসাসমেত খান, কেউ আবার খোসা ছাড়িয়ে। কারও আবার প্রিয় ফলের রস। কেউ ফল চিবিয়ে খেতে ভালোবাসেন। ফলের পুষ্টিগুণ কে কতটুকু পাবেন, তা নির্ভর করে ফল খাওয়ার ধরনের উপর।
মেশিনে ফলের রস করে তা খেয়ে নেওয়া সহজ কাজ ঠিকই, কিন্তু ফল চিবিয়ে খেলেই উপকার বেশি। ফল চিবিয়ে খাওয়ার এই অভ্যাস কেন বেশি উপকারী?
• ফলের খোসায় অনেক বেশি পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফলের বাইরের অংশ ও খোসার অভ্যন্তরে এই ফাইবার থাকায় ফল রস করে খাওয়ায় এই ফাইবারের গুণ আর পাওয়া যায় না। ফল থেকে যে পুষ্টিগুণ পাওয়ার কথা, তার অনেকটই অধরা থেকে যায়। তাই যেসব ফল চিবিয়ে খাওয়া সম্ভব, সেসব রস না করে চিবিয়ে খান।
• কয়েকটি ফল আছে, যার বাইরের অংশে প্রচুর ফাইবার থাকে। সেসব ফল খোসা না ছাড়িয়ে গোটা খান। যেমন, শসা, আপেল, পেয়ারা ইত্যাদি। তবে পেটের সমস্যা বেশি থাকলে অধিক ফাইবারে রাশ টানতে হবে। তাই আইবিএস বা পেটের গোলযোগ বেশি হলে ফলের খোসা ছাড়িয়ে খাবেন।
• বাড়ির সবচেয়ে খুদেটির হয়তো এখনও দাঁতই গজায়নি। তাই ফলের রস করে তাকে খাওয়ালে কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু সেই রস খোলা হাওয়ায় বেশিক্ষণ ফেলে রাখবেন না। রস হয়ে যাওয়ার পরেই খাইয়ে দিন। তবে শিশু একটু বড় হতে শুরু করলে তাকে অবশ্যই ফল চিবিয়ে খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।
• আজকাল নানা সংস্থা তাদের ফলের রসের টেট্রা প্যাকে বাড়তি ফাইবার যোগ করা হয় বলে দাবি করে। কিন্তু সেইসবই প্রিজারভেটিভে ঠাসা। সঙ্গে অতিরিক্ত নুন ও চিনিও মেশানো থাকে। তাই এই ধরনের প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলাই ভালো। বরং ফলের দোকান থেকে ফল কিনে ভাল করে ধুয়ে তা খান।
• গোটা ফলের মধ্যে থাকা ফাইবারকে হজম করতে শরীরকে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া ফলের ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। সেখানে ফলের রস খেলে এমন উপকার মেলে না। ফলের রসের ক্যালোরিও অনেকটাই বেশি।
• ফল যে কোনও সময় খাওয়া যায়। খালিপেটেও ফল খেতে কোনও সমস্যা নেই। বরং যে কোনও বড় মিল খাওয়ার আগে একটি ফল খান। তাতে পেট একটু ভরে যায়, ফলে খিদের মুখে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলার প্রবণতা কমে। অনেকের আবার খালিপেটে ফল খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে। সেক্ষেত্রে ফল খাওয়ার আগে সামান্য কিছু খেয়ে নিন।
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়