


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটের কাছে কাশী মিত্র শ্মশানঘাট বহু প্রাচীন অঞ্চল। গঙ্গার ধারে গা ছমছমে পরিবেশ। শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় দু’টি মন্দির বর্তমানে আছে। অন্যান্য দেবদেবীর সঙ্গে আছে কালীমূর্তিও। এই শ্মশান ঘিরে জড়িয়ে দুর্দান্ত কালী ডাকাত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে কালীর পুজো করে তবেই তিনি বেরতেন। এর পাশাপাশি অনেকে বলেন, কাশী মিত্র শ্মশানঘাটে নাকি সতীদাহও হয়েছে।
কালীচরণ কোন মন্দিরটিতে কালীর পুজো করে ডাকাতি করতে বেরতেন তা এখন আর জানা যায় না। গঙ্গার তীরে দুই মন্দিরে বর্তমানে সকাল‑সন্ধ্যা পুজো হয়। অমাবস্যায় হয় বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ। বহু দূর থেকে ভক্তরা আসেন পুজো দিতে। দোর্দণ্ডপ্রতাপ কালী ডাকাত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময় জীবনের গতিমুখ পাল্টে গিয়েছিল। বিখ্যাত মাতৃসাধক হিসাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন তিনি। নাম হয়েছিল কালিকানন্দ অবধুত। শহরের পাঁচটা শ্মশানের মতো স্ট্র্যান্ড ব্যাংক রোডে অবস্থিত কাশী মিত্রতেও রয়েছে বৈদ্যুতিক ও কাঠের চুল্লি। কলকাতা ও আশপাশের জেলা থেকেও প্রতিদিন সৎকার করতে দেহ নিয়ে আসে মানুষ।
সৎকার করতে আসা মানুষ কাশী মিত্র ঘাটে এসে কালী ডাকাতের কথা জানতে চায়। ডাকাত কোথায় থাকতেন? কোন কালীমন্দিরে পুজো দিতেন এসব প্রশ্ন করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজস্ব জ্ঞান অনুযায়ী তাঁদের তথ্য দেন। ইতিহাস বিজরিত এই শ্মশান ঘিরে জড়িয়ে অজস্র ইতিহাস। অনেকে কুমোরটুলি এলে শ্মশান দেখতে আসেন। অনেকেই বলেন, এখানে ‘সতীদাহ’ হত। এলাকার প্রবীণ মানুষদের বক্তব্য, সে সময় পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চল অথচ সতীদাহ হত না, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। কাশী মিত্র থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই বরানগরের রামেশ্বর হাইস্কুলের উল্টোদিকে গঙ্গা লাগোয়া স্থানে যে সতীদাহ হত তার নজির আছে। যে মহিলাদের সতী করার জন্য আনা হত তাঁরা আসন্ন মৃত্যুর আতঙ্কে পরিত্রাহী আর্তনাদ করতেন। সে চিৎকার যাতে মানুষের কানে গিয়ে না পৌঁছয় তার জন্য তীব্র স্বরে বাজানো হত ঢাক‑ঢোল‑কাঁসর। পরবর্তীকালে বরানগরের এই ঘাট ‘সতীদাহের ঘাট’ নামে পরিচিত হয়। গবেষক অজিত সেনের ‘বরানগর আঞ্চলিক ইতিহাস’ বইয়ে এ সংক্রান্ত বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে।
ছবি আছে