


নয়াদিল্লি: দিনদশেক পর দোল। রঙের উৎসবে মেতে উঠবে গোটা দেশ। তার আগেই জঙ্গি হানার আশঙ্কায় জারি হাই অ্যালার্ট। দিল্লির লালকেল্লার পাশাপাশি চাঁদনি চকের একটি মন্দির সহ একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণের ছক কষছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা। তাদের নিশানায় রয়েছে বড়ো বড়ো শহরের ধর্মীয় স্থান। গোয়েন্দা সূত্রে এমনই ‘ইনপুট’ মিলেছে। এরপরই রাজধানী সহ দেশের একাধিক শহরের মন্দিরগুলিতে আরও জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে লালকেল্লা, কাশ্মীরি গেট, চাঁদনি চক, মেট্রো স্টেশন সহ জনবহুল এলাকাগুলিকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরইমাঝে পাঞ্জাব ও কাশ্মীরে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরের গন্ধেরবাল জেলার গুলাব শেখ মহল্লায় রাস্তার পাশে একটি ব্যাগের মধ্যে আইইডি উদ্ধার হয়। একইসঙ্গে পাঞ্জাবের অমৃতসরের রায়া পুলিশ পোস্টের কাছেও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। তড়িঘড়ি বম্ব স্কোয়াড পাঠিয়ে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে লস্কর-ই-তোইবার কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজধানীর পাশাপাশি পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীরেও সজাগ রয়েছে পুলিশ-প্রশাসন ও সেনা।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৬০ জনেরও বেশি আহত। সূত্রে খবর, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই ভারতে নাশকতার পরিকল্পনা করেছে লস্কর-ই-তোইবা। তাই ধর্মীয় স্থান বিশেষ করে মন্দিরগুলিকে নিশানা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাস তিনেক আগে অর্থাৎ গতবছর ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছেই বিস্ফোরণ ঘটে। সেই ঘটনায় দেশের হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক তথা মেডিকেল মডিউল সামনে আসতেই চিন্তায় পড়ে যায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। মেডিকেল মডিউলের সদস্যদের সঙ্গে জইশ জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগসূত্রও পাওয়া গিয়েছিল। এরইমাঝে লস্করের হামলার ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে আরও সতর্ক রাজধানীর পুলিশ-প্রশাসন।