


মুম্বই: তিনশো বছর আগেকার মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি ঘিরে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে মহারাষ্ট্রে। এই সমাধি সরানোর দাবি তুলে হিন্দুত্বের রাজনীতিতে শান দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। কয়েকদিন আগে নাগপুরে হিংসাও ছড়িয়ে পড়ে। এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন বালাসাহেব থ্যাকারের ভাইপো রাজ থ্যাকরে। আওরঙ্গজেবের সমাধি নিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানির চেষ্টার তীব্র নিন্দা করলেন এমএনএস প্রধান। তাঁর বার্তা, ইতিহাস জানতে পড়াশোনা করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের উপর বিশ্বাস করা উচিত নয়। জাত ও ধর্ম দিয়ে ইতিহাসের বিচার করা ঠিক নয়।
শিবাজী পার্কে এক সমাবেশে রাজের কটাক্ষ, ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’ থেকে ইতিহাস জানলে চলবে না। তিনি বলেন, মুঘল শাসক আসলে শিবাজি নামে একটা ভাবনাকে খতম করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজে ব্যর্থ হন আর মহারাষ্ট্রেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। আওরঙ্গজেব বিতর্ককে অপ্রয়োজনীয় বলে খারিজ করে দিয়েছেন আরএসএস নেতা সুরেশ ‘ভাইয়াজি’ যোশিও। এরইমধ্যে আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর পক্ষে মত প্রকাশ করেও ঢোঁক গিলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি বলেছেন, ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের ওই সমাধি ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের (এএসআই) আওতাধীন। তা সুরক্ষিত রাখা হবে। কিন্তু আওরঙ্গজেবের মহিমাকীর্তন বরদাস্ত হবে না।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে রবিবার রাজ বলেছেন, ‘বিজাপুরের সেনাপতি আফজল খানকে প্রতাপগড় দুর্গের কাছে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। শিবাজি মহারাজের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব ছিল না। ওই ব্যক্তিরা মারাঠাদের ধ্বংস করতে গিয়ে নিজেরাই উৎখাত হয়ে গিয়েছিল। এই তথ্য কি আমরা বিশ্বকে জানতে দিতে চাই না? তাই হোয়াটস্যাপে নয়, ইতিহাস বই থেকেই জানতে হবে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, শিবাজি পূর্ব ও পরবর্তী পর্বে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে এখানকার কোনও মিলই নেই। কিন্তু এখানকার জ্বলন্ত সমস্যাগুলি ভুলে অতীত নিয়ে প্ররোচিত হওয়া উচিত নয়। ছাবা সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে রাজ বলেছেন, যেসব হিন্দুরা সিনেমা দেখে জেগে উঠেছেন, তাঁরা কোনও কাজের নয়।