


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: শুক্রবার রাতে ফুলেশ্বরের কোটালঘাটায় চোর সন্দেহে কাহার আলি সর্দার নামের এক যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় শনিবার রাতে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের রবিবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে কাহারকে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় যুবকদের। তারা ভাবে, হয়তো চুরি করতে এসেছে। এরপর কয়েকজন চোর সন্দেহে তাঁকে মারধর করা হয়। রক্তাক্ত হয়ে পড়লে তারা রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের সুপার অমিত ভার্মা বলেন, মৃত যুবকের বাড়ি ওই এলাকায় নয়। অচেনা লোককে চোর সন্দেহে মারধর করার ফলে এই ঘটনা। পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সব অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হবে।
প্রসঙ্গত, উলুবেড়িয়ার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারিজাতের সর্দারপাড়ার বাসিন্দা কাহার আলি সর্দার (২৬) শুক্রবার বিকালে বাড়ি থেকে বের হন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ফুলেশ্বরের কোটালঘাটা এলাকায়। শুক্রবার রাতে সেখানে তাঁকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে চোর সন্দেহে মারধর করা হয়। শনিবার সকালে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ কাহারের পরিবারকে তাঁর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছে দেয়। পাশাপাশি দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায়। এদিকে, অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কাহার আলির মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের লোকজন উলুবেড়িয়া মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে পথ অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উলুবেড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দোষীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা দেহ সৎকার করবেন না বলে জানান। বাধ্য হয়ে পুলিশি পাহারায় মৃতদেহ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার আটজনকে গ্রেপ্তারের পর মৃতদেহ সৎকার করা হয়।