


ইম্ফল: এন বীরেন সিং সরকারের ইস্তফা সত্ত্বেও নতুন করে ভোট হয়নি। প্রায় বছর খানেকের রাষ্ট্রপতি শাসনের পর ফের মণিপুরে ফের বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। কিন্তু তারপর থেকে ফের হিংসা মাথাচাড়া দিয়েছে উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে। চলতি মাসের শুরুতেই বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে রকেট হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু হিংসার আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বন্ধ, মিছিল, বিক্ষোভ ঘিরে অশান্তির মাত্রা বাড়ছে। অভিযোগ, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ বিজেপি সরকার। এই অবস্থায় রবিবার রাজ্যে বিজেপিকে বয়কটের ডাক দিল প্রভাবশালী মেইতেইদের সংগঠন কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর (কোকোমি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিজেপি নেতাদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার আরজি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের উপর হামলা রুখতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। এব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী জুমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের বিবৃতিও চেয়েছে কোকোমি।
সংগঠনের সদস্য শান্তা নাহাকপম বলেন, ‘এটা স্বঘোষিত সরকার। রাজ্যের কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্ক নেই। নির্দোষ মানুষকে হত্যা করাই মাদক-জঙ্গিদের মূল এজেন্ডা। সেটাই উনি ভুলে গিয়েছেন।’ কোকোমির দাবি, মণিপুরের জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালানো হচ্ছে। অথচ কেন্দ্র কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর জন্য দায়ী বিজেপি। শান্তার তোপ, ‘এই ছায়াযুদ্ধ নিয়ে কোনো উত্তর দিতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসন। তাই মণিপুরে বিজেপির সবরকম কর্মসূচি বয়কটের ডাক দিচ্ছে কোকোমি।’ অন্যদিকে, দুই নাগা ব্যক্তির মৃত্যুর প্রতিবাদে তিনদিনের বন্ধ ডেকেছে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল। নাগা অধ্যুষিত এলাকায় ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ চলবে। বিষ্ণুপুরে বিএসএফ জওয়ানের বাড়িতে হামলার পর জনরোষ আছড়ে পড়েছে। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আগুন। পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। গত ৮ এপ্রিল সিআরপিএফ শিবিরে প্রতিবাদকারী ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিনজনের মৃত্যু হয়। জখমের সংখ্যা ৩০। গত ১৪ এপ্রিল বিষ্ণপুরে ১৪ জন প্রতিবাদকারী জখম হয়। শনিবার ইম্ফল পশ্চিমে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে স্মোক বম্ব ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মেইতেই মহিলা গোষ্ঠী ও নাগরিক সংগঠনের ডাকা পাঁচদিনের বন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইম্ফলের জনজীবন। সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ প্রত্যাহারের আর্জি জানানো হয়েছে।