


সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘মতুয়াগড়’ বনগাঁয় গেরুয়া ঝড়! বনগাঁ মহকুমার চার আসনে বিজেপিতেই আস্থা রাখলেন মতুয়ারা। বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, বাগদা ও গাইঘাটা—চার কেন্দ্রেই জয়ী হলেন বিজেপির প্রার্থীরা। ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের তুলনায় বিজেপি প্রার্থীদের ব্যবধানও বেড়েছে। বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূলের উপরেই ভরসা রেখেছিলেন মতুয়ারা। এবার সেখানে বিজেপির জয়জয়কার। ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর ৩৪ হাজার ৬১৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩০৭টি ভোট। অন্যদিকে, তৃণমূলের মধুপর্ণা ঠাকুর পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৯১টি ভোট।
বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে এবারও জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া। ৪০ হাজার ৬৭০ ভোটে তৃণমূলের বিশ্বজিৎ দাসকে পরাজিত করেন তিনি। অশোক কীর্তনিয়া পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩১৭ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৪৭টি ভোট। বনগাঁ মহকুমাযর মধ্যে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছেন গাইঘাটা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুব্রত ঠাকুর। তৃণমূল প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাসকে ৪৭ হাজার ৬৮৩ ভোটে পরাজিত করেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী পান ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩২২ ভোট। তৃণমূল প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৭৩ হাজার ৬৩৯। অন্যদিকে, প্রথম থেকে পিছিয়ে থাকলেও অবশেষে বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদার জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৯৯। তৃণমূল প্রার্থীকে ৩৭ হাজার ৮১৪ ভোটে পরাজিত করেন তিনি।
এসআইআর ইস্যুতে বারবার উঠে এসেছে ‘মতুয়াগড়’ বনগাঁ মহকুমার নাম। লক্ষাধিক মতুয়া ও উদ্বাস্তুর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় বিজেপির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। যদিও তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি ভোটের ফলে। অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেস ব্যর্থ তাঁদের ভোটব্যাংক ফেরাতে। জয় প্রসঙ্গে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘মানুষ তৃণমূলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। মানুষের সেই ক্ষোভ এবার ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলেছে।’ তৃণমূল প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি মানুষের রায়ে জিতেছে। আশা করব মানুষের জন্য কাজ করবে।’