


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্টেশনে হোলি এবং দোলযাত্রার ভিড় নিয়ে আচমকাই অতি সক্রিয় রেলমন্ত্রক। এব্যাপারে আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও ওই বৈঠক হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। মাত্রাছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে এবিষয়ে সুস্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন রেলমন্ত্রী। জানা যাচ্ছে, উল্লিখিত বৈঠকে দেশের প্রায় প্রতিটি স্টেশনে ‘হোল্ডিং এরিয়া’ তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৭৬টি স্টেশনে স্থায়ী ‘হোল্ডিং এরিয়া’ বা যাত্রী প্রতীক্ষালয় নির্মাণের ব্যাপারে বোর্ড আধিকারিকদের কাছ থেকে আপডেট নিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে নিউদিল্লি স্টেশনে মাত্রাছাড়া ভিড়ের কারণে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পরই স্টেশনে স্টেশনে হোল্ডিং এরিয়া তৈরির উপর জোর দিয়েছে রেল। এহেন অস্থায়ী যাত্রী প্রতীক্ষালয়গুলিতে সাধারণত অসংরক্ষিত বা টিকিট কনফার্মড না হওয়া রেল যাত্রীদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। যদিও রেলের দাবি, হোল্ডিং এরিয়াগুলিতে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের যাবতীয় ব্যবস্থা থাকে। একইসঙ্গে যথাযথভাবে ট্রেন এবং টিকিট সংক্রান্ত ঘোষণার ব্যবস্থাও থাকে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যাতে অযথা ভিড় না হয়, সেই লক্ষ্যেই অস্থায়ী যাত্রী প্রতীক্ষালয়গুলির উপর জোর দিচ্ছে রেল বোর্ড। আগামী সপ্তাহেই হোলি এবং দোলযাত্রা। ফলে ছুটিতে অনেকেই বাড়ি ফিরছেন। একইভাবে উৎসব শেষে ফের কর্মস্থলে ফেরার তাড়া শুরু হয়ে যাবে। উভয় ক্ষেত্রেই রেলওয়ে স্টেশনে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা রয়েছে। তা খতিয়ে দেখতেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বোর্ড আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে খবর।
ইতিমধ্যে রেলমন্ত্রক ঘোষণা করেছে, হোলি এবং দোলযাত্রা উৎসবের দিকে তাকিয়ে সারা দেশে মোট ১ হাজার ২৪৪টি স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে পূর্ব-মধ্য রেলওয়ে জোনে। ২৭৫টি। পূর্ব রেলে চালানো হচ্ছে আপ-ডাউন মিলিয়ে মোট ২২টি হোলি স্পেশাল ট্রেন। দক্ষিণ-পূর্ব রেলে চলবে ২৮টি। রেল জানিয়েছে, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লিগামী হোলি স্পেশাল ট্রেনগুলি হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা, মালদহ টাউন, ডানকুনি, আসানসোল, সাঁতরাগাছি এবং শালিমার থেকে ছাড়বে। -ফাইল চিত্র