


ঢাকা: তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত বছর বাংলাদেশের বহু জায়গায় দুর্গাপুজো করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছে উদ্যোক্তাদের। দুর্গামূর্তিও ভাঙচুর করা হয়েছে। এবার কিছুটা সতর্ক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। মঙ্গলবার তিনি ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে যান। সেখানে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর ঘেরাটোপে থেকে ধর্ম পালন করতে চাই না। আমরা চাই নাগরিক হিসেবে মুক্তভাবে যে যার ধর্ম পালন করুন। এ অধিকার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদসংস্থা বিএসএস জানিয়েছে, সামনেই হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন ইউনুস। সেখানে তিনি বলেন, ‘কোনও সরকারই নাগরিকদের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করতে পারে না। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সমান মর্যাদার অধিকারী। ধর্ম, মত বা অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে কাউকে কোনওভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না।’
সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষায় তাঁর সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে যে সমালোচনা হয়, তাও কার্যত মেনে নিয়েছেন ইউনুস। তাঁর কথায়, ‘আমরা বারবার লাঞ্ছিত হই, অপমানিত হই, নানা বৈষম্যের শিকার হই। কেন? কারণ নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে আমরা হতাশ হয়ে গিয়েছি। এখন আর হতাশ হওয়া চলবে না। নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল—সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা।’
গত বছর জুলাই মাসে গণ অভ্যুত্থানের দেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ নেমে এসেছে। তবে এই আক্রমণগুলিকে রাজনৈতিক বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা করেছে ইউনুস সরকার। এই অবস্থায় কিছুটা নরম মনোভাব দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের আশ্বস্ত করতেই ইউনুস উদারপন্থী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত।