


জয়পুর: বঙ্গে নির্বাচন। তার ধাক্কা লেগেছে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে মরুশহর জয়পুরের গৃহস্থের অন্দরমহল থেকে রেস্তরাঁ-হোটেলে। কেন এই পরিস্থিতি? জানা গিয়েছে, রাজস্থানের রাজধানীতে বহু বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের একটা বড়ো অংশ কোচবিহারের বাসিন্দা। বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাদান করতে তাঁরা দলে দলে ফিরে এসেছেন বাড়িতে। তাতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু, কেন দলে দলে বাংলার ফিরছেন পরিযায়ীরা? তাঁদের সাফ জবাব, ‘ভোট না দিলে যদি নাম কেটে যায়...!’ ট্রেনের জেনারেল-স্লিপার কামরায় কোনোমতে ঠেলেগুঁজে ওঠা মানুষগুলোর দুচোখে ধরা পড়েছে এসআইআরের আতঙ্ক।
রাজস্থানের মহিলা কামরাজ ইউনিয়নের নেত্রী মেওয়া ভারতী পরিচারিকাদের অধিকার রক্ষা নিয়েও কাজ করেন। তিনি জানিয়েছেন, জয়পুরের পরিচারিকা ও শ্রমিকদের ৮০ শতাংশই কোচবিহারের বাসিন্দা। এই প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য তাঁদের মধ্যে তুমুল উৎসাহ দেখা গিয়েছে। দলে দলে রাজ্যে ফিরে গিয়েছেন তাঁরা। কোভিডের পর কখনো এই প্রবণতা দেখা যায়নি। তাঁরা ফিরে যাওয়ায় গৃহস্থ পরিবার থেকে হোটেল-রেস্তরাঁগুলি প্রবল সমস্যার মধ্যে পড়েছে। রাজস্থানের হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তরুণকুমার বনসল জানিয়েছেন, কোচবিহারের শ্রমশক্তি ছাড়া জয়পুরের রান্নাঘর চলতেই পারে না। কিন্তু, ভোটের জন্য পরিচারিকা ও শ্রমিকদের বড়ো অংশ রাজ্যে ফিরে যাওয়ায় হোটেল-রেস্তরাঁ খোলা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। তরুণবাবুর অধীনে কর্মরত ২৪০ জনের মধ্যে ৭০ জনই কোচবিহারের। তাঁদের সকলেই ছুটির আবেদন জানিয়েছিলেন। আবার পরিযায়ীরা বাড়ি ফিরে যাওয়ায় বায়েস গোদামের বাঙালি মাছ বাজার ও শেকর মার্গের বাঙালি আনাজ মান্ডিও মাসখানেক ধরে বন্ধ।
কিন্তু এবার ভোট দিতে এত উৎসাহ কেন? কেন দলে দলে রাজ্যে ফিরছেন শ্রমিকরা? পরিযায়ী শ্রমিক ঊষা বর্মনের কথায়, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলেছে, পরিবারের যতজন ভোট দিতে যাবে, তার ভিত্তিতে আমাদের টাকা দেবে। তাছাড়া, ভোট না দিলে যদি নাম কেটে যায়... সেই ভয়েও সকলে রাজ্যে ফিরে যাচ্ছে।’ এই আবহে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। ওয়েটিং লিস্ট দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বাধ্য হয়েই জেনারেল কামরা কিংবা বাসে সওয়ার হয়েই রাজ্যে ফিরছেন পরিযায়ীরা।