


তেল আভিভ: ‘ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক রক্ত ও আত্মবলিদান দিয়ে লেখা।’ বুধবার ইজরায়েল পার্লামেন্টে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এমনটাই জানালেন নরেন্দ্র মোদি। এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইজরায়েলের পার্লামেন্ট কেনেসেটে ভাষণ দিলেন। এদিন মোদি বক্তব্যে উঠে আসে গাজায় শান্তি ফেরানো থেকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রসঙ্গ। বক্তৃতায় ২০২৩ সালে হামাসের হামলার সঙ্গে ২৬/১১ মুম্বই হামলাকে মিলিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হওয়ার যন্ত্রণা খুব ভালোভাবেই জানে ভারত। তাছাড়া দু’দেশের সম্পর্ক লেখা রয়েছে রক্ত আর আত্মবলিদান দিয়ে। কারণ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এই মাটিতে ৪ হাজার ভারতীয় সেনা প্রাণ দিয়েছিলেন।’ এরপর সরাসরি গাজায় শান্তি ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করেন মোদি। হামাসের হামলার নিন্দা করেই তিনি বলেন, ‘ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে আগ্রহী ভারত। আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপন করা সম্ভব।’ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের কোনও অজুহাত হয় না।’ জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভাষণ শেষের পর বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয় মোদিকে। পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ সম্মান অর্থাৎ ‘স্পিকার অব দ্য কেনেসেট মেডেল’ দেওয়া হয় তাঁকে।
দু’দিনের সফরে বুধবার বিকেলে ইজরায়েলে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ২০১৭ সালে শেষবার ইজরায়েলে গিয়েছিলেন তিনি। বিমান থেকে অবতরণের পর তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন তাঁরা। নেতানিয়াহুর ছিলেন তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু। সারার পরনে ছিল গেরুয়া পোশাক। আর মোদির পকেট স্কোয়ারটির রংও ছিল গেরুয়া। এনিয়ে তিনজনের মধ্যে হাসি-ঠাট্টাও হয়। ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পালটা হিসাবে মোদিকে সঙ্গে নিয়ে ‘ষড়ভূজ শক্তি’ গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছেন নেতানিয়াহু।