


সংবাদদাতা, কালনা: তিন দশক বা তার কিছু সময় আগে মেয়েদের পার্লার ভাবা যেত না। ছেলেদের পার্লার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেয়েদের হেয়ার কাটিং সেন্টার বা মহিলা পার্লার। পুজোয় যেমন ফ্যাশনের পোশাক পরে ঠাকুর দেখা। তেমনই চুলের প্রতি এসেছে। নানা কাটিং করে নিজেকে সকলের কাছে আকর্ষণীয় গড়ে তোলা। ছেলেদের সঙ্গে কিশোরী, টিনেজার ও গৃহবধূদের চুলের কাটিংয়ে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। এবার ছেলেদের মুলেট কাটিং, উলফ কাটের সঙ্গে মেয়েদের বাটার ফ্লাই, ফেদার কাট ও স্টেপ কাট বাজার মাতাচ্ছে। নাওয়া খাওয়ার সময় নেই পার্লারের কর্মাচারীদের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ব্যস্ততা।
মাঝ বয়সি অনেকে বলছেন, আগে সিনেমার নায়কদের চুলের কাটিং দেখে ছেলেরা চুলের ছাঁট দিত। যেমন অমিতাভ কাটিং, মিঠুন কাটিং বাজারে বেশ চালু ছিল। পরে ক্রিকেট খেলার উন্মাদনার জোয়ারে ছেলেদের পছন্দের কাটিং হয়ে উঠল বিরাট কোহেলি কাটিং। পোশাকি নাম মুলেট কাটিং। তার সঙ্গে বিদেশি ঘরনার উলফ কাটিং। ছেলেদের হেয়ার কাটিং সেন্টার বা সেলুনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মহিলা হেয়ার কাটিং সেন্টার বা মহিলা পার্লার। কালনা শহর ও শহরতলিতে গড়ে উঠেছে একাধিক মহিলা হেয়ার কাটিং সেন্টার। বিভিন্ন নামিদামি হেয়ার কাটিং সংস্থাও শাখা খুলেছে কালনায়। শিশুদের জন্য ইউ কাট, চাইনিজ কাট ও বব কাট। কিশোরী, যুবতী ও গৃহবধূদের জন্য বাটার ফ্লাই, স্টেপ কাট, ফেদার কাট, মাল্টি স্টেপ, মাল্টিলেয়ার প্রভৃতি। শুধু কাটিং নয় তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চুলের রঙে বৈচিত্র এসেছে। চাহিদা রয়েছে গোল্ডেন ব্রাউন ও হাই লাইট ও ব্লাক সেপ ইত্যাদির। চুলের কাটিং ও রং করার খরচ এক হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। কালনা শহরের সিদ্ধেশ্বরী মোড় সংলগ্ন একটি হেয়ার কাটিং সেন্টার ও পার্লালের মালিক পাপিয়া ঘোষ বলেন, এক সময় চুল কাটার পেশার সঙ্গে যারা যুক্ত থাকতো সমাজে তাদের অন্য চোখে দেখা হত। ছেলে মেয়েরা হেয়ার কাটিং শিখতে পড়াশোনা করছে। কর্মীরা সন্মান পাচ্ছেন। হেয়ার কাটিং এখন শিল্প। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মহিলা কর্মী বলেন, বিএ পাশ করে চাকরি না পাওয়ায় এই পেশাকেই বেছে নিয়েছি। সম্মানের সঙ্গে কাজ করছি। রোজগার ভালো হচ্ছে। কালনায় মহিলা হেয়ার কাটিংয়ে ব্যস্ত এক মহিলা কর্মী। নিজস্ব চিত্র