


রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: বিশুদ্ধ নান্দিকিশোর পুরাণে দেবী উমার অসুরের সঙ্গে মোষ না রাখার বিধান আছে। সেই প্রথা মেনেই আলিপুরদুয়ারের জামতলার ভট্টাচার্য বাড়িতে পুজোয় মোষ ছাড়াই দেবী উমা পূজিতা হন। ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোর প্রতিমায় আরও বৈশিষ্ট আছে। সাধারণত মায়ের ডান দিকে গণেশ ও বাঁ দিকে কার্তিক থাকেন। কিন্তু ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোয় মায়ের বাঁ দিকে গণেশ ও ডান দিকে কার্তিক থাকেন।
জানা গিয়েছে, ওপার বাংলার ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়া পরগণার গোপালগঞ্জের পশ্চিমপাড় গ্রামে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল ভট্টাচার্যদের নবম পুরুষ গোপাল ভট্টাচার্যের হাত ধরে। সেই হিসাব ধরলে এই পারিবারিক পুজো ৩০০ বছর ছাড়িয়ে গিয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভট্টাচার্য পরিবার আলিপুরদুয়ারে চলে আসে। তখন থেকেই শহরের জামতলায় মায়ের পুজো হয়ে আসছে। এই পুজোয় মায়ের ভোগেও অনন্য বৈচিত্র্য আছে। মাকে কাতল, বোয়াল ও ইলিশ মাছের ভোগ দেওয়া হয়। ভোগে থাকে আড় মাছের মাথাও। এছাড়া রসুন ও পিঁয়াজ ছাড়া দেবীকে মাংসের ভোগও দেওয়া হয়। তবে আজও ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোয় সপ্তমী, অষ্ঠমী ও নবমীতে পাঁঠা বলি দেওয়ার রেওয়াজ ধরে রাখা হয়েছে। এছাড়া, চাল কুমড়ো ও শসা দিয়ে তৈরি প্রতীকী শত্রুকেও বলি দেওয়া হয়। দেবীকে হলুদ ছাড়া বাল্যভোগও দেওয়া হয়। দেবীর বাল্যভোগের তালিকায় থাকে খিচুড়ি, নানা পদের সবজি, ভাঁজা, ফলমূল ও নাড়ু। মা অজন্তার ভোগে থাকে কালো কচুর রস মিশ্রিত জলও। ১০৮টি পদ্মফুল ছাড়া মায়ের পুজো হয় না।
পরিবারের উত্তরসূরী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, বিশুদ্ধ নান্দিকিশোর পুরাণ মতে আমাদের পারিবারিক পুজো হয়। পরিবারের নবম পুরুষের এই কঠোর শাস্ত্রীয় বিধি অমান্য করার কোন উপায় আমাদের নেই। বাড়িতেই মায়ের একচালা প্রতিমা তৈরি হয়। তবে এবার স্থানীয় কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। বাড়ির শুভ কাজ শুরু হয় বুড়ো শিব ও আকুলাইদেবীর পুজো দিয়ে। পুজোর পরে দশমীতে মায়ের প্রতিমার নিরঞ্জন হয়। নিরঞ্জনেও বৈচিত্র্য আছে। দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের পর বাড়ির মহিলারা আশীর্বাদ ফোঁটা নেন। তারপরেই মায়ের প্রতিমার নিরঞ্জন হয়।
পরিবারের আর এক উত্তরসূরী অর্কপ্রভ ভট্টাচার্য বলেন, পুজোর ক’দিন বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে পারিবারিক পুনর্মিলন উৎসব হয়। আগে পুজো উপলক্ষ্যে বাড়িতে দেওয়াল পত্রিকা বের করা হত। তবে এখন দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ করা হয় না। • ফাইল চিত্র।