


সংবাদদাতা, কাটোয়া: টুলু মন্ডলের অবৈধ সম্পত্তির হদিশে নানা জায়গায় এখনও তল্লাশি অভিযান অব্যহত রেখেছে রাজ্য পুলিশ। এবার সেই জালের রেশ ধরে পুলিশ পৌঁছল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে। মঙ্গলকোটের আইমা পাড়া গ্রামে রাতভোর তল্লাশি চালাল টুলু মণ্ডলের ডানহাত ও আত্মীয় ইফাজুল হকের বাড়িতে। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে বেশ কয়েকটি ট্রাঙ্কে উদ্ধার করে পুলিশ। যদিও কিছু পাওয়া যায় নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ইফাজুল পাঁচ বছর ধরে টুলুর পাথর খাদানে কাজ করত। তার বৈভব ছিল চরম শিখরে। জানা গিয়েছে ইফাজুল তার স্ত্রীকে নিয়ে সিউড়িতে থাকে। তবে গত তিন দিন আগে মঙ্গলকোটের আইমা পাড়া গ্রামে তার বাবার কাছে এসেছিল। কিন্তু পুলিশি অভিযানের আগেই ইফাজুল শনিবার ভোরে চিকিৎসা করানোর নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পুলিশ টুলু মণ্ডলের খোঁজের পাশাপাশি তার সহযোগীদেরও খোঁজ চালাচ্ছে। টুলুর বিপুল সাম্রাজ্য এর হদিশ পেতে চাইছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ তারিখ, মঙ্গলবার রাতে। একটি ডাকাতির ছক বানচাল করতে গিয়ে সাত দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। তাদের জেরা করতেই জানা যায়, তাদের আসল লক্ষ্য ছিল দেউচায় টুলুর পরম বিশ্বস্ত আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি। সেখানে নাকি লুকানো রয়েছে কোটি কোটি টাকা ও সোনা। সেই তথ্যের ওপর ভর করে বুধবার ভোর সাড়ে তিনটেয় মিনারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশের বিশেষ দল। টানা ২৯ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে উদ্ধার হয় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি আন্তর্জাতিক মানের সোনা। বৃহস্পতিবারও সেই তল্লিশি অব্যহত থাকে। দিনভর সিউড়িতে টুলুর বিলাসবহুল 'দলিলা ভবন', মহম্মদবাজারের সোঁৎশালে পৈতৃক গ্রামের চারতলা বাড়ি ও পার্কিংয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিকেল নাগাদ জীবধরপুরে টুলুর গোপন বাগানবাড়ি থেকে একটি গাড়িতে করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পাচারের চেষ্টা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়িটি আটকে পুলিশে খবর দেন। গাড়ির চালককে আটক করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশ হানা দেয় টুলুর প্রধান হিসাবরক্ষক কৌসার মোল্লার বাড়িতেও। এই তল্লাশি অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে পুলিশ। এর জাল কতদূর বিস্তৃত তা এখন তদন্ত করছে পুলিশ।