


মস্কো, ৫ অক্টোবর: গবেষণার কাজে বাইরে গিয়েছিলেন অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কর্মরত এক তরুণী গবেষক। গবেষণা চলাকালীনই হঠাৎ দুর্ঘটনাবশত ভেঙে যায় একটি জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকা টেস্টটিউব। তার পরেই অজানা কারণে তীব্র নিউমোনিয়া। আর মাত্র দু’দিনের মধ্যে মৃত্যু। সাম্প্রতি সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের একটি অ্যান্টি-প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৮ বছর বয়সি গবেষক দারিয়া শিপিলোভার এই আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে প্লেগের সরাসরি যোগের কোনও সরকারি প্রমাণ মেলেনি।
রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসপোট্রেবনাদজরের তরফে জানানো হয়েছে, শিপিলোভার অসুস্থতার প্রাথমিক কারণ হিসেবে ‘অজানা কারণে নিউমোনিয়া’-র কথাই বলা হচ্ছে। তাঁর শরীরে এমন কোনও অণুজীবের সন্ধান মেলেনি, যা তাঁর গবেষণার কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে প্লেগ বা অন্য কোনও সংক্রামক জীবাণুর সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হলেও, এখনও পর্যন্ত তার পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে রয়েছে একাধিক ধোঁয়াশা। জানা গিয়েছে, ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কর্মরত শিপিলোভা সম্প্রতি মঙ্গোলিয়া সীমান্ত লাগোয়া বুরিয়াতিয়া এলাকায় গবেষণার জন্য গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানিয়েছিলেন, গবেষণার সময় জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে যায়। যদিও ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর পরবর্তী অসুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শিপিলোভাকে। দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভেন্টিলেটরে রাখা হয় তাঁকে। কিন্তু চিকিৎসায় সাড়া না দিয়ে মাত্র দু’দিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় ওই গবেষকের। এর পরেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেলেখভ হাসপাতালে তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইরকুতস্ক অঞ্চলের আরও কয়েকটি হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
যদিও পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই বলেই দাবি করেছেন ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের সংস্পর্শে ওই গবেষক এসেছিলেন, তাঁদের চিকিৎসকদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কারও মধ্যে সংক্রমণের উপসর্গ দেখা যায়নি। পরীক্ষার ফলও নেগেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।