


অনুভব সেনগুপ্ত, ৫ অক্টোবর: সাধারণ নিয়মে দুর্গাপুজো শুরু হতে এখনো বাকি নয় দিন। কিন্তু কলকাতার শীল লেনের দাস বাড়িতে শুরু হয়ে গেল দেবী দুর্গার আরাধনা। আদ্রা নক্ষত্রের কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে দাশ বাড়ির পুজো শুরু হয়। গত কুড়ি বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে এই বাড়িতে। দুর্গাপুজোর সাতটি কল্প। প্রথম কল্প ধরেই এখানে পুজো হয়। এই পুজো শুরু করেন স্বর্গীয় প্রদীপ কুমার দাস। প্রতিমাতে রয়েছে বৈশিষ্ট্য। এখানে সিংহ ঘোড়ামুখী বা অশ্বসিংহ। আর এই বাড়ির প্রতিমার গায়ের রং হলুদ বর্ণের। মূর্তির আকার বা রূপে পরিবর্তন হলেও গায়ের রঙে কখনো পরিবর্তন আসে নি।
পাশাপাশি দুর্গা পুজোয় ভোগ একটি বড় বিষয়। আর এই বাড়িতে পূজো যেহেতু ১৫ দিন ধরে চলে তাই ভোগের আয়োজনও তার সঙ্গে মানানসই। সকালে দেবীকে বেল গাছের ডাল ও গরম দুধ দেওয়া হয়। এরপর দুপুরে থাকে অন্ন ভোগের ব্যবস্থা। সঙ্গে হরেক রকম ভাজা, ছোলার, ডাল, তরকারি। আর তরকারির ক্ষেত্রে থাকে একটু অন্যরকম ব্যবস্থা। যেমন পনির পাসিন্দা, পটলের দোরমা, ধোকার ডালনা থাকবে তালিকায়। সন্ধ্যায় দেওয়া হয় শীতল ভোগ যার মধ্যে থাকে লুচি, সুজি, ছোলার ডাল। সন্ধি পুজোর ভোগে থাকে বিশেষ ব্যাবস্থা। সন্ধিক্ষণে দুর্গাকে নিবেদন করা হয় হিং-এর খিচুড়ি। দুর্গার পাশাপাশি ভোগ দেওয়া হয় তাঁর সন্তানদের এবং তাঁর বাহনদেরও। আর দশমীতে দেবীকে বিসর্জনের আগে দেওয়া হয় পান্তা ও কচুর লতি । ১৫ দিন ধরে উমাকে বাড়ির মেয়ে হিসেবে সেবা আপ্যায়ন করেন দাস বাড়ি সদস্যরা।